ভাইফোঁটায় রান্নার ঝামেলা মুক্ত হতে চাইলে পঞ্চায়েত দপ্তরের অধীনস্থ সিএডিসি এনেছে বিশেষ মেনু

দুর্গাপুজোয় বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দিয়ে রেকর্ড আয় করেছে পঞ্চায়েত দপ্তরের অধীনস্থ সংস্থা পশ্চিমবঙ্গ সামগ্রীক অঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদ বা ডব্লুবিসিএডিসি। দুর্গাপুজোর মতো এই ভাইফোঁটাতেও উত্‍সবমুখর বাঙালিকে রান্নার ঝামেলা থেকে মুক্তি দিতে আসরে রাজ্য পঞ্চায়েত দপ্তর। আজ অর্থাৎ ২৬ অক্টোবর এবং আগামীকাল ২৭ অক্টোবর তারা নিয়ে এসেছে ভাইফোঁটার স্পেশাল মেনু। শুধুমাত্র একটা ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপের অপেক্ষা দুপুর বা রাত, বিশেষ মেনু দিয়ে সাজানো এই থালি পৌঁছে যাবে বোনদের কাছে।
মৃত্তিকা এই ব্যানারে ব্র্যান্ডেড খাবার মানুষের দরজায় পৌঁছে দেবে পঞ্চায়েত দপ্তর। ২৬ এবং ২৭ অক্টোবর দপ্তর আয়োজিত এই বিশেষ থালির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ভাইফোঁটা থালি’। দাম অবশ্যই সাধারণের সাধ্যের মধ্যে। মাত্র ৩২৫ টাকা রকমারি পঞ্চ ব্যঞ্জনে ভাইকে সাজিয়ে খাওয়াতে পারেন আপনিও। কী কী থাকবে এই থালিতে? দপ্তর জানিয়েছে, দুপুরের মেনুতে আছে বাসমতি চালের ভাত, মাছের মাথা দিয়ে মুগের ডাল, ফিস ব্যাটার ফ্রাই, বাসন্তি পোলাও, মাছের পুর দিয়ে পটলের দোর্মা এবং চাটনি ও মিষ্টি‌। তবে এখানেই শেষ নয় গ্রাহকরা ইচ্ছে করলেই এর সঙ্গে যোগ করে নিতে পারবেন আরও বেশ কিছু খাবার। সেক্ষেত্রে দামও আলাদা পড়বে। থাকছে ইলিশ পাতুরি, ভেটকি পাতুরি, পাঁঠার মাংস, দেশি মুরগির ঝোল এবং গলদা চিংড়ি। রাতে থাকছে চিকেন বিরিয়ানি এবং চিকেন চাপ।যেমন ইলিশ মাছের পাতুরি, এক পিসের দাম পড়বে ১৮০ টাকা, মাটন কষা, চার পিসের দাম পড়বে ২০০ টাকা, দেশি মুরগী কষা, চার পিসের দাম ১৫০ টাকা। দু’পিস গলদা চিংড়ির মালাইকারি, দাম পড়বে ১৫০ টাকা ও এক পিস ভেটকি পাতুরী যার দাম ১১০ টাকা।
হোয়াটসঅ্যাপ বা ফোনের মাধ্যমে অর্ডার এই অর্ডার দেওয়া যাবে। যার নম্বর হল ৮২৪০৬২২৩৪৬, ৯৪৩২২০৭১৩১ এবং ৯৭৩৪৩৯৯৯১৫। পর্ষদের প্রশাসনিক সচিব সৌমজিত্‍ দাস জানিয়েছেন, অর্ডার ইতিমধ্যেই নেওয়া শুরু হয়ে গেছে। সর্বোচ্চ প্রতিদিন ৫০০টি থালির অর্ডার নেওয়া হচ্ছে।
সিএডিসি’র অধিকর্তা সৌম্যজিত্‍ দাস জানান, এবছর পুজোয় রান্না করা খাবার পৌঁছে দিয়ে তাঁদের আয় হয়েছে প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা। যেখানে দফতরের এই বাবদ আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৫ লাখ টাকা। তিনি জানান, ফোনে হোম ডেলিভারির জন্য যেমন বুকিং হয়েছে তেমনই পুজো মণ্ডপে স্টল থেকেও বহু মানুষ খাবার কিনেছেন। মানুষের চাহিদা পূরণ হওয়ায় আমাদের লক্ষ্যমাত্রাও টপকে গেছে। আগামীদিনে হোম ডেলিভারির এলাকা কীভাবে বাড়ানো যেতে তার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। এখন কলকাতা পুর এলাকার পাশাপাশি উত্তর দমদম, দক্ষিণ দমদম, বিধাননগর, বরাহনগর এবং হাওড়ার শিবপুরের নবান্ন সংলগ্ন এলাকায় এই খাবার ডেলিভারি করা হয়।