লখনউ ২৭অক্টোবর:২০১৯ সালে যোগী আদিত্যনাথের উদ্দেশে বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের অভিযোগ করা হয়েছিল তাঁর বিরুদ্ধে। অবশেষে সেই অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলেন সমাজবাদী পার্টির বর্ষীয়ান নেতা আজম খান । উত্তরপ্রদেশের রামপুরের একটি আদালত এই রায় দিয়েছে।
ঠিক কী অভিযোগ করা হয়েছিল আজম খানের বিরুদ্ধে? ২০১৯ সালে যোগী আদিত্যনাথ,নরেন্দ্র মোদি ও তৎকালীন জেলাশাসক আইএএস আধিকারিক অঞ্জনেয়কুমার সিংয়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করেছিলেন তিনি। এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। যার রায় প্রকাশিত হল বৃহস্পতিবার। তিন বছরের জন্য কারাবাসের সাজা শোনানো হয় তাঁকে। এর ফলে বিধানসভার সদস্যপদ বাতিল হতে পারে তাঁর।
প্রসঙ্গত, যোগীকে ক্রিমিনাল বলে কটাক্ষ করতে দেখা গিয়েছিল আজম খানকে। তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছিল, “আপনি ধর্মের তথাকথিত ধ্বজাধারী ও গোরক্ষনাথ মন্দিরের পুরোহিত। কিন্তু, তার পাশাপাশি আপনি একজন যাদব পুলিশকর্মীকে খুনও করেছেন।” এছাড়াও ওই সময় রাজস্থানের রাজ্যপাল কল্যাণ সিংকেও কটাক্ষ করেছিলেন তিনি। সেই সময়ই রামপুরের চারজন প্রশাসনিক আধিকারিকের নামে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগেও মামলা দায়ের হয় তাঁর নামে।
আজম খান এর আগেও কারাবাস করেছেন। একটি প্রতারণার মামলায় জেলে যেতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু এই বছরের গোড়াতেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অন্তর্বর্তী জামিন পান তিনি। প্রায় দুই বছর তিনি জেলে ছিলেন।২০১৭ সালে বিজেপি উত্তর প্রদেশে ক্ষমতায় আসার পর থেকে সমাজবাদী নেতার বিরুদ্ধে কেবল এই দু’টি মামলাই নয়, তাঁর বিরুদ্ধে বহু মামলা করা হয়েছে। যার মধ্যে দুর্নীতি থেকে চুরি, বাদ যায়নি কিছুই। সব মিলিয়ে ৯০টির বেশি মামলা রয়েছে আজম খানের বিরুদ্ধে।
উত্তরপ্রদেশের রামপুরের আদালত তাকে ২৫হাজার টাকা জরিমানাও করেছে।
সমাজবাদী নেতা প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দেশে এমন পরিবেশ তৈরি করার অভিযোগ করেছিলেন যেখানে মুসলমানদের অস্তিত্ব থাকা কঠিন ছিল।
আজম খান কার্যত অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টির দুই নম্বর নেতা, রামপুর এবং পশ্চিম উত্তর প্রদেশের অন্যান্য অংশে তার জনপ্রিয়তা রয়েছে।
জামিন পাওয়ার জন্য আজম খান যুক্তি দিয়েছিলেন যে উত্তরপ্রদেশ সরকার নিরলসভাবে তার বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করছে যাতে তিনি জেলেই থাকেন।
