একদা ‘ইউনিফর্ম সিভিল কোড’ নিয়ে সক্রিয়তা দেখিয়েছিল কেন্দ্র৷ বিরোধীদের তুমুল সমালোচনা ও প্রতিবাদের মুখে তা গৃহীত হয়নি। এমনকি শীর্ষ আদালতও এ ইস্যুতে দায় ঝেড়ে বলেছিল, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে সংসদকে নির্দেশ দিতে পারে না আদালত। আজও ‘ইউসিসি’ নীতি ছাইচাপা আগুনের মতো ধিকিধিকি জ্বলছে৷ শুক্রবার খানিক তার আদলেই ‘এক দেশ, এক পুলিশি উর্দি’র তত্ত্ব খাড়া করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি(Narendra Modi)।
হরিয়ানার সূরজকুণ্ডে আয়োজিত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র চিন্তন শিবিরে সমাপ্তিজ্ঞাপক বক্তব্য রাখতে গিয়ে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি এখন আর একটি রাজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অপরাধ এখন ক্রমেই এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, তেমন আন্তর্জাতিক স্তর থেকেও সংগঠিত হচ্ছে৷ সীমান্তের ওপার থেকে অপরাধীরা তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার করে রাজ্যে রাজ্যে অপরাধ সংগঠিত করছে৷’ প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য রাজ্যগুলির একসঙ্গে কাজ করা শুধুমাত্র সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নয়, রাষ্ট্রের প্রতি রাজ্যগুলির দায়িত্বের মধ্যেও পড়ে৷’
এক্ষেত্রে পুলিশি তৎপরতা ও ঐকমত্যর উপর জোর দেন মোদি। সেই সময় পুলিশি মহলে আধুনিকীকরণের পাশাপাশি ‘এক দেশ এক পুলিশি উর্দি’র প্রসঙ্গও উত্থাপন করেন তিনি। অবশ্য তিনি এও বলেছেন, ‘এক দেশ, এক উর্দি’র পরামর্শটি শুধুই একটি পরামর্শ৷ জোর করে চাপিয়ে দেওয়া নয়৷ তিনি বলেন, ‘এক দেশ এক র্যাশন কার্ডের মতোই সারা দেশের পুলিশের জন্য একই উর্দিও চালু করতে পারি। আমি মানছি প্রতিটি রাজ্যের আলাদা চিহ্ন রয়েছে। কিন্তু এই বিষয়টি নিয়ে রাজ্যগুলি চিন্তাভাবনা করতেই পারে।’মোদির ‘এক দেশ, এক পুলিশি উর্দি’ তত্ত্ব এদিন খারিজ করে দেয় বিরোধীরা। কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা ও সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য বলেন, ‘সবই এক ও অভিন্ন করতে চান প্রধানমন্ত্রী। অথচ দেশের প্রভাবশালী মানুষের একাংশ শোষণ করছে, অন্য অংশ শোষিত হচ্ছে; একাংশ মানুষ টাকা চুরি করে দেশ ছেড়ে পালাচ্ছে, অন্য একটি অংশের কাছে জীবিকা, অর্থোপার্জন, দু-বেলা দু মুঠো খাবারও নেই। এক্ষেত্রে কেন অভিন্নতা আনতে পারছেন না প্রধানমন্ত্রী? বাজার অর্থনীতিতে ধ্স, অগ্নিমূল্য, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে যখন নাজেহাল, তার সুরাহা না করে এসব আজগুবি জিনিসে মন ভোলাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, তা দুর্ভাগ্যজনক।’ তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন জানিয়েছেন, ‘মোদি হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়। আইনশৃঙ্খলা বরাবর রাজ্যের বিষয়, এবার তাতেও হস্তক্ষেপ করছেন প্রধানমন্ত্রী। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো বলে এদেশে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।’ সিপিআই নেতা ডি রাজা বলেন, ‘কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক শিকেয় তুলতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রী। এমন কোনও নীতি আমরা মানিনি, মানব না।’
