দিল্লি দখলে মরিয়া আপ, এবারও ক্ষমতা ধরে রাখতে আত্মবিশ্বাসী বিজেপি

রবিবার হয়ে গেল দিল্লি(Delhi) পুর নির্বাচন। ঝাঁটা নাকি পদ্ম কার দখলে থাকবে দিল্লি পুরসভা, তা নির্ধারণ করতেই এদিন ভোটের লাইনে ভিড় জমিয়েছেন সাধারন মানুষ। তবে সেভাবে ভোটদানে উৎসাহ নজরে আসেনি বহু বুথে। এদিন সকাল ৮’টা থেকে শুরু হয়েছে ভোটদান। বিগত কয়েক বছরের মতো এবারও দিল্লিতে ত্রিমুখী লড়াই। এবারের লড়াই মূলত আম আদমি পার্টি ও বিজেপির মধ্যে। কংগ্রেস লড়াইয়ে শামিল হলেও সেভাবে প্রভাব নেই বলেই মনে করছেন রাজধানীর রাজনৈতিক মহল।

২০১২ সালে মুখ্যমন্ত্রী শীলা দিক্ষিত এবং কেন্দ্রে ইউপিএ সরকার পুরনো দিল্লি নগর নিগমকে ভেঙে তিন টুকরো করা হয়েছিল। দশ বছর পর রাজধানীর তিনটি পুরনিগমকে আবার সংযুক্ত করে একটি নিগম করা হয়েছে। এখন ওয়ার্ড সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫০। দিল্লির পুর নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ১ কোটি ৪৫ লাখ। মোট ১,৩৪৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোট নেওয়া হবে বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত। ফল ঘোষণা ৭ ডিসেম্বর। এদিন সকাল থেকেই শুরু হয় দিল্লি পুরসভার নির্বাচন। সকালে ভোটদানে বিভিন্ন বুথে ভোটারদের ভিড় লক্ষ্য করা গেলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তেমন উৎসাহ নজরে আসেনি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা গিয়েছে বিকেল সাড়ে ৪ টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে মাত্র ৪৫ শতাংস। দু-একটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া একপ্রকার শান্তিপূর্ণ ভাবেই ভোট হয়েছে

টানা প্রায় ১৫ বছর দিল্লি পুর নিগমের ক্ষমতায় বিজেপি। গতবারের মতো এবারও তারা দুই তৃতীয়াংশ কাউন্সিলরকে টিকিট না দিয়ে নতুন মুখ এনেছে। কিন্তু বিধানসভা ভোটে দিল্লির ৭০টি আসনের মধ্যে বেশির ভাগ দখল করেছে আপ। অথচ আপ কখনও দিল্লি পুরনিগম দখল করতে পারেনি। গত দিল্লি পুরসভার ভোটে মোট ২৭২টি ওয়ার্ডের মধ্যে বিজেপি জিতেছিল ১৮১টিতে। আপ পেয়েছিল ৪৮ এবং কংগ্রেস ২৭টি ওয়ার্ড। তাই লড়াই এ বার সেয়ানে সেয়ানে। বিজেপিকে সরিয়ে দিল্লি পুর নিগমের দখল নিতে আপ জঞ্জাল, দূষণ এবং বেআইনি বাড়ির সমস্যা নিয়ে লাগাতার প্রচার চালিয়েছে। বিধানসভার মতোই পুরভোটেও আপ নানা আর্থিক ছাড়ের কথা ঘোষণা করেছে। তারমধ্যে অন্যতম হল, পুরকরে বিশেষ সুবিধা। এখন দেখার রাজধানীর মানুষ পদ্মের শোভাতেই মগ্ন থাকেন নাকি আপের ঝাঁটা বেছে নেন।

আপের মুখ্য আহ্বায়ক তথা দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীওয়াল দিল্লিবাসীর উদ্দেশে একটি সৎ এবং দায়িত্বনিষ্ঠ পুরনিগম গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত এবং পরিচ্ছন্ন দিল্লির পক্ষে থাকুন। তাই প্রতিটি ওয়ার্ডে আপ প্রার্থীদের বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করুন।’’

দিল্লির উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসৌদিয়া বলেন, ‘‘দেড় দশকে দিল্লি আবর্জনার পাহাড়ে পরিণত হয়েছে। আমরা ক্ষমতায় এলে দিল্লিকে স্বচ্ছ বানানোই হবে প্রধান লক্ষ্য।’’ কার্যত বিজেপির ধাঁচেই দিল্লি সরকার ও দিল্লি পুরনিগমে আপের ডাবল ইঞ্জিনের সরকারের পক্ষে সওয়াল করেছেন আপ নেতারা।

অন্য দিকে, বিজেপি হাতিয়ার করতে চাইছে দুর্নীতিকে। দুর্নীতির অভিযোগে আপের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈনের তিহাড় জেলে বন্দি, উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসৌদিয়ার বিরুদ্ধে আবগারি দুর্নীতির অভিযোগ দিল্লিবাসী ভাল ভাবে নেয়নি বলেই দাবি বিজেপি নেতৃত্বের। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর দাবি করেন, ‘‘স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আবগারি, পরিবহণ, এমনকি ঠিকা শ্রমিকদের অধিকার হরণ করে দুর্নীতির একটি নতুন মডেল খাড়া করেছে কেজরীওয়াল সরকার। মানুষ পুর নিগমের ভোটে এর বদলা নেবেন।’’

কড়া নিরাপত্তার বেড়াজালে মুড়ে ফেলা হয়েছে দিল্লি পুর এলাকাকে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ভোটের দিন রাস্তায় ছিলেন ৪০ হাজার দিল্লি পুলিশকর্মী। পাশাপাশি ২০ হাজার হোমগার্ড এবং মোতায়েন ছিল ১০৮ কোম্পানি আধাসেনা। সব মিলিয়ে, রবিবারের দিল্লি যেন এক কথায় দুর্গে পরিণত হয়েছে।