‘মৃতদেহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল, মানুষ কাঁদছিল’ নেপাল বিমান দুর্ঘটনার কাহিনী শোনালেন প্রত্যক্ষদর্শীরা

নেপালের পোখারায় রবিবার এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় ইয়েতি এয়ারলাইন্সের বিমানটি ৬৮ জন যাত্রী এবং ৪ জন ক্রু সদস্য নিয়ে অবতরণের ঠিক আগে বিধ্বস্ত হয়। ওই দুর্ঘটনায় সকলেই নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৫ ভারতীয় যাত্রীও রয়েছেন।
দুর্ঘটনার সময় উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কীভাবে বিমানটি বিধ্বস্ত হয় এবং কীভাবে তাদের প্রাণ রক্ষা হয়েছিল। গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্থানীয় বাসিন্দা কল্পনা সুনার বলেন, তিনি তার বাড়ির উঠানে কাপড় ধুচ্ছিলেন, তখন তিনি দেখেন যে বিমানটি তার দিকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে আসছে। বিমানটি একটি অস্বাভাবিক উপায়ে বেঁকেছিল এবং কিছুক্ষণ পরেই আমি একটি বোমার মতো বিস্ফোরণ শুনতে পেলাম এবং তারপরে আমি উপত্যকা থেকে ধোঁয়ার ঢেউ উঠতে দেখেছিলাম।
স্থানীয় বাসিন্দা গীতা সুনারের বাড়ি থেকে প্রায় ১২ মিটার দূরে বিমানের একটি ডানা মাটিতে আছড়ে পড়ে। মাটিতে আছড়ে পড়ার পর বিমানটি দু’ভাগ হয়ে যায়। সামনের অংশ নয়াগাঁওয়ে এবং পেছনের অংশ উপত্যকায় ছিটকে পড়ে।
দুর্ঘটনায় অল্পের জন্য বেঁচে যাওয়া গীতা বলেন, বিমানটি আমাদের বাড়ির একটু কাছে পড়লে পুরো কলোনি ধ্বংস হয়ে যেত। এর সাথে তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সৌভাগ্যক্রমে দুর্ঘটনাটি টাউনশিপ থেকে অনেক দূরে হয়েছে, যার কারণে টাউনশিপের কোনো ক্ষতি হয়নি।
গীতা জানান, রাস্তায় খেলতে থাকা শিশুরা বিমানের ভেতর থেকে কান্নার শব্দ শুনতে পায়। ১১ বছরের সমীর এবং প্রজ্বল পারিয়ার জানায়, তারা যখন খেলছিল তখন তারা বিমানটিকে আকাশ থেকে নীচে পড়তে দেখেছিল। তারা প্রথমে এটিকে খেলনা মনে করলেও বিমানটি কাছাকাছি এলে তারা পালিয়ে যায়। হঠাৎ ধোঁয়ায় চারদিক অন্ধকার হয়ে গেল। মনে হচ্ছিল বিমানের টায়ার আমাদের আঘাত করবে। কাঠমান্ডু থেকে পোখারা যাচ্ছিল ইয়েতি এয়ারলাইন্সের বিমান। বিমানটি পোখারার কাছে পৌঁছে অবতরণের মাত্র ১০ সেকেন্ড আগে বিধ্বস্ত হয়।