জেলার মোট জনসংখ্যার থেকেও বেশি মানুষ পরিষেবা পেয়েছেন দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে। রবিবার মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘিতে একটি সরকারি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া তথ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে জেলাজুড়ে। মুখ্যমন্ত্রী যত সংখ্যক মানুষকে দুয়ারে সরকার পরিষেবা দেওয়া হয়েছে দাবি করেছেন, মুর্শিদাবাদ জেলার মোট জনসংখ্যাই তার থেকে কম বলে উল্লেখ করা হয়েছে সরকারি ওয়েবসাইটে। মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া পরিসংখ্যানের সরকারি ওয়েবসাইটের তথ্য মেলালে তৈরি হচ্ছে প্রশ্ন। একই সঙ্গে এদিন এই জেলায় জেলায় দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে ব্যাপক সাফল্য পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন সাগরদিঘিতে একটি সরকারি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, মুর্শিদাবাদ জেলায় এখনও পর্যন্ত দুয়ারে সরকার ক্যাম্প হয়েছে ২৪,৩৯২টি। সেখানে এসেছিলেন ৮৪ লক্ষ মানুষ। তার মধ্যে ৭৩ লক্ষ ১৮ হাজার মানুষ ক্যাম্পে আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে ৬৩ লক্ষ ৫৫ হাজার মানুষের আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। আর মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া এই তথ্যের পরই উঠেছে নানান প্রশ্ন। সরকারি ওয়েবসাইট অনুসারে, ২০১১ সালের জনগণনা অনুসারে মুর্শিদাবাদ জেলার মোট জনসংখ্যা ৭১ লক্ষ ০২ হাজার। মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রতি ১০ বছরে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ২১ শতাংশ। সেই হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি হয়েছে ধরলে ২০২১ সালে জেলার জনসংখ্যা হওয়া উচিত প্রায় ৮৫ লক্ষ। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি অনুসারে এই ৮৫ লক্ষের মধ্যে ৭৩ লক্ষ মানুষ দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে আবেদন করেছেন। যা জেলার মোট আনুমানিক জনসংখ্যার ৮৬ শতাংশ! মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া পরিসংখ্যানের পর বিষয়টি নিয়ে ট্রোল শুরু হয়ে গিয়েছে নেট দুনিয়ায়। বিরোধীদের প্রশ্ন জেলায় জেলায় যদি দুয়ারে সরকার ক্যাম্পের মাধ্যমে মানুষের যাবতীয় সমস্যার সমাধান হয়ে যায় তাহলে কেন ‘দিদির দূত’ কর্মসূচিতে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধি ও নেতারা বিক্ষোভের মুখে পড়ছেন?
