ভোটে লড়তে আসেনি আরএসএস, সক্রিয় রাজনীতির ছোয়া এড়ালেন সঙ্ঘপ্রধান নেতাজির স্বপ্নের ভারত গঠনের লক্ষ্য নিয়ে চলছে সঙ্ঘ: মোহন ভাগবত

নিজস্ব প্রতিবেদক: নেতাজীকে নিয়ে সঙ্ঘের অতি ভক্তিকে বিঁধেছিলেন সুভাষ কন্যা অনিতা বসু পাফ। রাখঢাক না রেখে বলেই দিয়েছিলেন, ‘নেতাজি আরএসএসের কট্টর সমালোচক ছিলেন।’ সোমবার শহিদ মিনার ময়দানে দাঁড়িয়ে নেতাজি কন্যার সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে সঙ্ঘপ্রধান মোহন ভাগবত বলেছেন, ‘নেতাজি আর আরএসএসের একই লক্ষ্য। নেতাজির স্বপ্ন ছিল ভারত গঠন। সেই স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যেই এগোচ্ছে সঙ্ঘ।’ সুভাষ চন্দ্র বসুকে নিয়ে বাঙালির আবেগে সুড়সুড়ি দিয়ে বিজেপিকে বাড়তি সুবিধা পাইয়ে দিতেই সঙ্ঘ নেতাজি ভজনায় মেতেছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে তাও খারিজ করে দিয়েছেন সরসঙ্ঘচালক। তাঁর কথায়, আরএসএসের সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই। ভোটে জেতার জন্য এখানে আসিনি।’
নেতাজির ১২৬ তম জন্মদিন উপলক্ষে এদিন সকাল নয়টা থেকে শহিদ মিনার ময়দানে শুরু হয় সঙ্ঘের ‘নেতাজি লহ প্রণাম’ অনুষ্ঠান। প্রথমে কুচকাওয়াজে অংশ নেন সঙ্ঘের প্রচারক ও সদস্যরা। সকাল দশটা নাগাদ মঞ্চে আসেন সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত। ঘটা করে নেতাজির জন্মদিন পালন নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘নতুন নয়। প্রতি বছরই সঙ্ঘের তরফে নেতাজির জন্মদিন পালন করা হয়। আমরা প্রথম থেকেই নেতাজিকে সম্মান জানিয়ে আসছি। আমি একবার নিজে শ্যামবাজারে ছিলাম। এখন সংগঠন বড় বলে লোকে জানতে পারে।’ এর পরেই নেতাজির লড়াই, আপোষহীন সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন সঙ্ঘ প্রধান।
ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে কীভাবে লড়াই চালিয়েছিলেন বাঙালি সন্তান তা উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ভারতকে স্বাধীন করার স্বপ্ন অনেকেই দেখেছিলেন। লড়াইয়ের দিশাও দেখিয়েছিলেন। কিন্তু ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামার সাহস দেখিয়ে ছিলেন মাত্র একজন। সেনাপতিরা সাধারণত সরাসরি যুদ্ধ করেন না। কিন্তু নেতাজি নিজে আজাদ হিন্দ বাহিনীকে নেতৃত্ব দিয়ে সিঙ্গাপুর থেকে অসম পর্যন্ত চলে এসেছিলেন। তাঁর ভাগ্য সহায় থাকলে, ভারত আরও অনেক আগেই স্বাধীন হতো।’ দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করলেও সুভাষ চন্দ্র বসু যে প্রকৃত সম্মান পাননি, উপেক্ষিত থেকে গিয়েছেন, সেই কথাও তুলে ধরেন সঙ্ঘ প্রধান।
সুভাষ কন্যা অনিতা বসু পাফ জানিয়েছিলেন, আরএসএস আর নেতাজির পথ-মত ভিন্ন। এদিন অবশ্য মোহন ভাগবত দাবি করেছেন, নেতাজির পথ-মতের সঙ্গে সঙ্ঘের পথ-মতের কোনও ফারাক নেই। নেতাজি যে ভারত গঠনের স্বপ্ন দেখতেন সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়নের জন্যই সঙ্ঘ কাজ করে চলেছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, ‘নেতাজি যে সমৃদ্ধশালী দেশ দেখতে চেয়েছিলেন, সঙ্ঘও তাই চায়। উনি চেয়েছিলেন বিশ্ব দরবারে ভারত শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করুক। আমরাও তাই চাই। আমাদের দেশ গোটা দুনিয়াকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। আমাদের সেই উদাহরণ তৈরি করতে হবে।’ সঙ্ঘ রাজনীতির জন্য আসেনি জানিয়ে ভাগবত বলেন, ‘আমরা রাজনীতি করতে আসিনি। ভোটে লড়তে আসিনি। আমরা সমাজ গঠনের কাজে নিজেদের নিবেদিত করতে এসেছি। আমাদের অর্থ, নাম-যশ কোনও কিছুর দরকার নেই। যে সমাজে ভেদাভেদ থাকবে না, সেই সমাজ দেখতে চেয়েছিলেন নেতাজি। আমরাও তাই চাই।’