দিল্লি গিয়ে বাংলা স্কুলে সিভি আনন্দ বোস, বঙ্গে জারি তরজা

রাজ্যপাল নিয়ে অবস্থানে কি অহেতুক তাড়াহুড়ো করে ফেলল বিজেপি! গতকাল রাতভবনে হাতেখড়ির পর রাতেই দিল্লি গিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। কিন্তু গতকাল থেকে বিজেপির ছোট বড় এবং মাঝারি নেতারা বারবার রাজ্যপালের সমালোচনা করে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন রাজ্যপাল রাজ্যে আসার পর থেকেই যে অবস্থা নিয়েছে তাতে খুশি নয় বিজেপি। এদিকে শুক্রবার দিনভর রাজ্যপালের গতিবিধি যে পথে এগিয়েছে তাতে দেখা গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পরীক্ষা মে চর্চা একটা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে শিশুদের জন্য গুরু তকমা দিয়েছেন তিনি। এ দিন আকস্মিক তিনি দিল্লির এক বাংলা মাধ্যম স্কুলে চলে যান। সেখানে গিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান শোনেন।
মোটের উপর রাজ্যপালের দুদিনের দুই অবস্থান রাজ্য রাজনীতিতে আলোচনার বিষয় হয়েছে। বৃহস্পতিবার হাতে খড়ির মঞ্চে ‘জয় বাংলা’ বলার জন্য যে বিজেপি নেতারা চাচাছোলা ভাষায় আনন্দ বোসের সমালোচনা করছিলেন তাদের সুর শুক্রবার কিছুটা হলেও ছিল নরম। রাজ্যপালের এ ধরনের পদক্ষেপকে আদতে ব্যালান্সিংয়ের প্রয়াস হিসাবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল। রাজনৈতিক মহল এমনটাও ব্যাখ্যা করছে এদিনের বক্তব্যের মাধ্যমে হয়তো কেন্দ্রের শাসকদলকে বার্তা দিতে চেয়েছেন রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান।

বৃহস্পতি এবং শুক্রবার-দুদিন রাজ্যপালের দুই ভূমিকা নিয়ে এরাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে প্রশ্ন করা হয়েছিল। যদিও এক্ষেত্রে রাজ্যপাল সম্পর্কে সাবধানী প্রতিক্রিয়া দিয়েছে এ রাজ্যের শাসক দল। বরং শাসকদলের তরফ থেকে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়া হয়েছে, আনন্দ বোসকে নিয়ে এত গাত্রদাহ কিসের বিজেপির! পদাধিকার বলে এবং সংবিধানসম্মতভাবে একজন রাজ্যপাল রাজ্যের সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা করে চলবে, এটাই তো স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রশ্ন, তাহলে বিজেপি কি চাইছে নতুন রাজ্যপালও রাজভবনকে বিজেপির পার্টি অফিসে পরিণত করুক।
অন্যদিকে, রাজ্যপালের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, রাজ্যপাল যথেষ্ট জ্ঞানী মানুষ। তার অবস্থান বা তার গতিবিধি নিয়ে আমার কিছু বলার নেই। তবে ‘জয় বাংলা’ নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল তার পেছনে যথেষ্ট কারণ রয়েছে। হয়তো রাজ্যপালের সরলতার সুযোগ নিয়ে তাকে দিয়ে জয় বাংলা বলিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখানেই আমাদের প্রতিবাদ। ভুলে গেলে চলবেনা, ‘জয় বাংলা’ বাংলাদেশের শাসক দল আওয়ামী লীগের স্লোগান। বাংলাদেশের যুদ্ধের সময়ও এই শ্লোগান ব্যবহার করা হয়েছিল। কাজেই সেই জায়গা থেকেই আমাদের বিরোধিতা। এদিন তার কাছে এও প্রশ্ন করা হয়েছিল হাতে খড়ি পর্বের পর বিভিন্ন মহল থেকে যেভাবে প্রতিক্রিয়া পাওয়া গিয়েছে, তাতে একথা কি বলা যায় না- অহেতুক তাকে নিয়ে সমালোচনা ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করা হল। জবাবে দিলীপ ঘোষ বলেন, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক আবহ এমন সবকিছুতেই রাজনীতিগতভাবে মানে খোঁজার চেষ্টা হয়। হয়তো তিনি যা বলছেন সরল মনেই বলছেন কিন্তু এটাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তবে আমি এখনই রাজ্যপালের পাশে কোন রাজনৈতিক স্ট্যাম্প দিতে চাইছি না। আমাদের রাজ্যপালের উপর এখনো ভরসা রয়েছে। তিনি অনেক যোগ্যতম ব্যক্তি।

যদিও এর পাল্টা জবাব দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম মুখপাত্র তাপস রায় এ প্রসঙ্গে বলেছেন, রাজ্যপালের উপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করতেই হাতে খড়ি ও জয় বাংলাকে ইস্যু করছে বিজেপি। আসলে বিজেপি চাইছে বর্তমান রাজ্যপালও জগদীপ ধনকরের মতো ভূমিকা পালন করুন। সেজন্যই এই চাপ তৈরির খেলা চলছে, বলে মত তার।