হিন্ডেনবার্গ-আদানি ইস্যু: উত্তাল সংসদ,মল্লিকার্জুন খাড়গের ডাকে ১৬ বিরোধী দলের বৈঠক,নেই তৃণমূল

নয়াদিল্লি ৩ফেব্রুয়ারি:হিন্ডেনবার্গ-আদানি ইস্যুতে সংসদে একটি কৌশল তৈরি করতে শুক্রবার ষোলটি বিরোধী দল একত্রিত হয়।সংসদ চত্বরে বিরোধীদলীয় নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গের চেম্বারে বৈঠকে বসেন দলগুলি।কংগ্রেস ছাড়াও ডিএমকে, সমাজবাদী পার্টি, আপ, বিআরএস, শিবসেনা (উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠী), আরজেডি, জেডি(ইউ), সিপিআইএম, সিপিআই, এনসিপি, এনসি, আইইউএমএল, কেরালা কংগ্রেস (জোস) মানি), কেরালা কংগ্রেস (থমাস), এবং আরএসপি বৈঠকে অংশ নিয়েছিল।
বিরোধীদের দাবি, পাবলিক সেক্টর ব্যাঙ্ক এবং এলআইসি-র অর্থ ক্ষতির তদন্তের জন্য একটি যৌথ সংসদীয় কমিটি (জেপিসি) গঠন করা।
এর আগে সংসদের উভয় কক্ষ মুলতবি করা হয়। বিরোধীরা জেপিসির দিয়ে তদন্তের দাবিতে সোচ্চার হন।
খাড়গে বলেছেন,“আমরা এই বিষয়ে জেপিসি দিয়ে তদন্তের দাবি জানাই এবং সংসদে দাবি উত্থাপন করেই যাব। আমরা দাবি করছি হিন্ডেনবার্গ-আদানি ইস্যুতে একটি জেপিসি গঠন করা উচিত।”
আদানি ইস্যু উত্থাপন করা থেকে বিরত রাখতে সংসদের উভয় কক্ষের কার্যক্রম স্থগিত করা হচ্ছে বলেও বিরোধীদের অভিযোগ।কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ বলেন, এদিন দুপুর ২টা পর্যন্ত সংসদের উভয় কক্ষ মুলতবি করা হয়েছে। কারণ সরকার এলআইসি, এসবিআই এবং অন্যান্য পাবলিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে জোরপূর্বক বিনিয়োগ তদন্তের জন্যে বিরোধীদের সম্মিলিত দাবিতে রাজি হয়নি।”
আদানি ইস্যুতে আলোচনার দাবিতে বিরোধী সদস্যদের হট্টগোলের পরে লোকসভা এবং রাজ্যসভা উভয়ই শুক্রবার যথাক্রমে ২ এবং ২-৩০ টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।
শুক্রবারও সকালে শেয়ারবাজার খুলতে না খুলতেই টালমাটাল শুরু হয়ে যায় আদানি গোষ্ঠীর সবকটি স্টকে। ফের ২৫ শতাংশ ধাক্কা লাগে আদানি এন্টারপ্রাইজের শেয়ারদরে। গত ২৪ ঘণ্টা ধরেই গৌতম আদানির নেতৃত্বাধীন সংস্থাটির শেয়ারদরে রক্তক্ষরণ চলছিল। সার্বিক ধাক্কায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১০ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি মার্কেট ভ্য়ালু খুইয়েছে তারা। কিন্তু তার পরেও লাগাম পরানো যায়নি রক্তক্ষরণে। শেয়ার বাজার নিয়ে যাঁরা নাড়াচাড়া করেন, তাঁদের বিশ্লেষণ এর নেপথ্যের মূল কারণ হিন্ডেনবার্গ রিপোর্ট।
এই রিপোর্টে জানা যায়, আদানির বিভিন্ন সংস্থাকে বিপুল পরিমাণ ঋণ দিয়েছে দেশের বিভিন্ন রাষ্ট্রায়াত্ত এবং বেসরকারি ব্যাঙ্ক। আদানি গোষ্ঠীতে এলআইসি, স্টেট ব্যাঙ্কেরও বড় অঙ্কের বিনিয়োগ রয়েছে বলে জানা যায়। বিষয়টি প্রমাণিত হলে ভারতের বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবি-র ভূমিকাও যে প্রশ্নের মুখে পড়বে, তা স্পষ্ট হয়ে যায়। আর এর ফলে বহু সাধারণ মানুষের গচ্ছিত পুঁজির ভবিষ্যৎ সংশয়ের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছে বিরোধীরা।