সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ সিকিমের নেপালিরা, প্রতিবাদে বনধে বিপর্যস্ত পাহাড়ি রাজ্য

সুপ্রিম কোর্টের(Supreme Court) পর্যবেক্ষণ ঘিরে উত্তপ্ত পড়শি রাজ্য সিকিম। সুপ্রিম কোর্ট গত ১৩ জানুয়ারি একটি মামলার পর্যবেক্ষণে মন্তব্য করেছিল, সিকিমের নেপালিরা ‘বিদেশি বংশোদ্ভূত।’ আর এতেই আগুনে ঘি পড়েছে। এর প্রতিবাদে সিকিমে ৪৮ ঘন্টা বনধের ডাক দিয়েছে পবন চামলিংয়ের দল সিকিম ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট। এই বনধে ব্যপক সারা পড়েছে সে রাজ্যে। ব্যপক প্রভাব পড়েছে পর্যটনেও। বহু দেশ বিদেশের পর্যটক আটকে পড়েছে। ইতিমধ্যেই সিকিম সরকারের নীরবতার প্রতিবাদ জানিয়ে ইস্তফা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মণি শর্মা। এমন পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের ওই পর্যবেক্ষণ সংশোধনের জন্য শীর্ষ আদালতে আবেদন করা হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে। শনিবার থেকে সিকিমে শুরু হয়েছে ৪৮ ঘণ্টার সাধারন ধর্মঘট। আজ বনধের দ্বিতীয় দিন। এই বনধের কারণে সিকিম জুড়ে ইতিমধ্যেই ঘটে গিয়েছে বেশ কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা। বনধের প্রথম দিনই গ্যাংটকে ইন্দিরা বাইপাসে এসডিএফ ভবন লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়া হয়। এমনকী, দলের প্রধান পবন চামলিংয়ের বাসভবনেও হামলা হয়। ভাঙে জানালার কাঁচ। এসডিএফের অভিযোগ, সিকিমের শাসকদল সিকিম ক্রান্তিকারী মোর্চার সমর্থকেরা প্রাক্তণ মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে এই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ সিকিমের জোরথাংয়ে এক এসডিএফ সমর্থককে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে এসকেএমের সমর্থকদের বিরুদ্ধে। দু’টি ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে পর্যটন মরসুমে বনধের কারণে ধাক্কা খেয়েছে সিকিমের পর্যটনে। বহু পর্যটক যেমন আটকে আছে সিকিমে, তেমনই বহু পর্যটক বাতিল করে দিয়েছে সিকিম ভ্রমণ। বিক্ষোভের জেরে সম্প্রতি পদত্যাগ করেছেন সিকিমের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মণিকুমার শর্মা। মণিকুমার শর্মা মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘‘রাজ্য সরকার সিকিমের অধিবাসীদের ভাবাবেগ গুরুত্ব সহকারে বিচার করেনি। আমি অনুভব করছি, এই সরকারে থাকার আর প্রয়োজন নেই।’’ এদিন একই কারণে পদত্যাগ করেছেন অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল সুদেশ যোশীও। পবন চামলিং এর ডাকা বনধের কারণে এদিনও বিক্ষোভ হয়েছে নামচি, গ্যাংটক, পেলিং, রোংলি বাজার এলাকাতে। যদিও সিকিমের পর্যটন অ্যাসোসিয়েশন ও পরিবহণ ইউনিয়ন বনধের বিরোধিতা করেছে। গতকাল নামচিতে এসকেএম এবং বনধ পালনকারীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ বাঁধে। থামাতে পুলিশকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয় পাথর। নামচিতে রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।