নয়াদিল্লি, ১৫ ফেব্রুয়ারি: বিশ্বাস পরিণত হচ্ছে বিশ্বাসঘাতকতায়! দিল্লিতে শ্রদ্ধা ওয়ালকারকে খুন করে দেহ ৩৫ টুকরো করে কুচিয়ে ফ্রিজারে রাখার ঘটনায় জেলবন্দি তার লিভ ইন সঙ্গী আফতাব আমিন পুনাওয়ালা। এই নৃশংসতার ঘটনার মধ্যেই ফের দিল্লি ও মহারাষ্ট্রে লিভ ইন সঙ্গীকে খুন করে দেহ ফ্রিজারে ও বক্স খাটের মধ্যে ঢুকিয়ে রাখার ঘটনা ঘটল। দিল্লির ঘটনায় শুধু লিভ ইন সঙ্গীকে খুন করেই ক্ষান্ত হননি অভিযুক্ত সাহিল গহলট, খুনের পরের দিনই সে তার নিজের পছন্দের পাত্রীকে বিয়েও করেন। নিজের মুখেই পুলিশকে নিক্কি যাদবকে খুনের কথা স্বীকার করে বিয়ের কথা জানিয়েছেন সাহিল। এদিকে নিক্কির বাবার দাবি, মেয়ের লিভ-ইন থাকার কথা জানতেন না তিনি। 
মঙ্গলবার দিল্লির নজফগঢ়ে ফ্রিজ থেকে উদ্ধার হয়েছে ২৩-এর তরুণী নিক্কি যাদবের নিথর দেহ। পুলিশ জানিয়েছে, ধাবার মালিক সাহিল গেহলটের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল হরিয়ানার ঝাজ্জারের মেয়ে নিক্কির। ২৪ বছরের সাহিল গহলটকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সাহিল পুলিশকে জানিয়েছে, ৯ এবং ১০ ফেব্রুয়ারির মাঝের রাতে মোবাইলের ডেটা কেবলের তার নিক্কির গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করে দেহ ফ্রিজারে ঢুকিয়ে দেয়। তার পরের দিনই বিয়ে করেন তার পছন্দের পাত্রীকে।
পাঁচ বছর আগে একটি পরীক্ষার প্রস্তুতির সূত্র ধরে উত্তমনগরে একটি কোচিং সেন্টারে তাদের আলাপ। একই বাসে যাতায়াত সূত্রে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নয়ডার গলগোটিয়া কলেজে আলাদা আলাদা শাখায় তারা ভর্তি হয়। দুজনেই লিভ-ইন সম্পর্কে ভাড়ার ফ্ল্যাটে থাকতে শুরু করেন। মানালি, হৃষিকেশ, হরিদ্বার, দেহরাদুন-সহ একাধিক জায়গায় তারা বেড়াতেও যায়। গত ১০ ফেব্রুয়ারি দুজনের গোয়ায় ঘুরতে যাওয়ার কথা ছিল, বুকিংও হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এরপরই নিক্কি জানতে পারে সাহিলের অন্য কারোর সঙ্গে বিয়ে হচ্ছে। এই নিয়ে অশান্তি। খুন হওয়ার আগেরদিন অর্থাৎ ৮ তারিখ গোয়া যাওয়ার প্ল্যান বাতিল করে নিক্কি। দিল্লির একটি আদালত সাহিল গেহলটকে পাঁচদিনের জন্য পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে।
অন্যদিকে লিভ পার্টনারকে খুন করে দেহ বক্স খাটে ঢুকিয়ে রাখার ঘটনা ঘটল মহারাষ্ট্রের পালঘরে। মৃতার নাম মেঘা ধন সিং তোরভি(৩৭)। আবাসনে শোওয়ার ঘরের বক্স খাটের ভিতর থেকে পুলিশ মেঘার পচাগলা দেহ উদ্ধার করে। পুলিশের অনুমান, দিনকয়েক আগেই খুন করে লিভ-ইন পার্টনারকে বক্স খাটে ঢুকিয়ে রেখেছিল প্রেমিক। ঘর থেকে দুর্গন্ধের খবর পেয়ে প্রতিবেশীরাই পুলিশকে খবর দেয়। দিন সাতেক আগেই ওই আবাসনের একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে দুজনে থাকতেন। মেঘার থেকে বয়সে ছোট ছিলেন হার্দিক শাহ। প্রতিবেশীদের তারা জানিয়েছিলেন তারা রিয়েল এস্টেটের এজেন্ট। হার্দিক বেকার ছিলেন। বাড়ির আসবাবপত্রও বেচে দিয়েছিল সে। দুজনের মধ্যে আর্থিক কারণে ঝগড়া লেগেই থাকত। পুলিশ সূত্রে খবর, গত দুদিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন ২৭ এর যুবক হার্দিক। মঙ্গলবারই মধ্যপ্রদেশের একটি রেলস্টেশনে তাঁকে পাকরাও করা হয়।
