বৃহস্পতিবার ফের মুখ পুড়লো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের। মামলার তদন্তের গতি নিয়েই ক্ষুব্ধ আদালত। এদিন আলিপুর আদালতে সিবিআই এজলাসে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার শুনানি হলো। বৃহস্পতিবার রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় সহ বাকিদের আলিপুর আদালতে পেশ করা হয়। কিন্তু তদন্তে অগ্রগতি নিয়ে আলিপুর আদালতের প্রশ্নের মুখে পড়ল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।’বৃহত্তর ষড়যন্ত্রকারীরা কোথায়? ব্যাঙ্কের স্টেটমেন্ট কোথায়?’ সিবিআইকে প্রশ্ন আলিপুর আদালতের। এদিন মামলার শুনানি পর্বে এজলাসে বিচারক জানান,- -‘যা হচ্ছে তা ঠিক নয়’। বিচারক সিবিআই আইনজীবীকে বলেন, ‘আপনারা চার্জশিট উল্লেখ করেছেন যে এই বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের বাকি অভিযুক্ত এবং প্রার্থীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা দরকার। তাহলে সেটা কই? তারা কোথায়? আমি ৭ ডিসেম্বর এই কোর্টে যোগ দিয়েছি। আজ ১৬ ফেব্রুয়ারি। অনেকদিন হয়েছে।’ বিচারকের ভর্ত্সনার মুখে সিবিআইয়ের আইনজীবী জানান, -‘ এমন অনেক তথ্য রয়েছে, যা তারা ওপেন কোর্টে বলতে পারছেন না’। একথা শুনে বিচারক আবারও প্রশ্ন করেন, -‘ কারও ১৬৪ (গোপন জবানবন্দি) রেকর্ডের আবেদন করা হয়েছে কি না? ব্যাঙ্কের কোনও স্টেটমেন্ট নেওয়া হয়েছে কি না? তদন্তকারী অফিসারের উদ্দেশে বিচারক বলেন, ‘যেটা হচ্ছে সেটা ঠিক নয়। অন্তত একটা ১৬৪ করান।’ তদন্তকারী অফিসার বলেন, ‘হাইকোর্টের নির্দেশে আমরা ডিটেল ইনভেস্টিগেশন করছি। বেসিক কাজ না করলে লক্ষ্য পূরণ হবে না। তাই একটু সময় চাই। ব্যাঙ্কের কিছু তথ্য দরকার।’ প্রসঙ্গত এদিন নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার দুই মিডলম্যান প্রদীপ সিং ও প্রসন্ন রায় ছাড়া বাকি প্রত্যেক আইনজীবীরাই জামিনের জন্য আবেদন জানান। যদিও প্রদীপ ও প্রসন্নর আইনজীবীদের দাবি, -‘ তাঁদের মক্কেলের বিরুদ্ধে সিবিআই কী কী অভিযোগ এনেছে, কী কী তথ্য প্রমাণ পেয়েছে, তা যাতে জানানো হয়’। তবে পার্থ চট্টোপাধ্যায় সহ বাকি সকল অভিযুক্তের আইনজীবীরাই জামিনের আবেদন জানান। পার্থর আইনজীবী এদিন এজলাসে জানান , -‘ এমনভাবে গোটা বিষয়টিকে দেখানো হচ্ছে, যেন এটাই বোধ হয় পৃথিবীর প্রথম দুর্নীতি। তা তো নয়, এর আগেও পৃথিবীতে অনেক দুর্নীতি হয়েছে’।তখন বিচারক বলেন, ‘অভিযুক্তদেরও তো কিছু অধিকার রয়েছে। অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত তো তদন্ত চলছে বলা যায় না। আর কতদিন সময় লাগবে?’ পাল্টা সিবিআই আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, ‘এরা তো বলবেই আমরা তদন্ত ‘ড্র্যাগ’ করছি। তদন্তের নামে আমরা কাউকে আটকাতে পারি না। কিন্তু তদন্ত যখন শুরু হয়েছিল, তখন অভিযোগ ছিল বেআইনিভাবে চাকরির। পরবর্তী তদন্ত কি দেখা যাচ্ছে, পুরোটাই পরিকল্পনা করে হয়েছে। কীভাবে ম্যানুপুলেট করা হল, কীভাবে নিয়োগ করা হল, কীভাবে গোটা বিষয়টি চাপা দেওয়া হল… পুরোটাই আমরা খুঁজে বের করছি।’সিবিআই আইনজীবী আরও জানান, -‘নিয়োগ করার আগে থেকেই সব প্ল্যানিং করা ছিল, যে -‘ওএমআর শিট কাকে দিতে হবে।এর মধ্যে সরকারী কর্মীদের পাশাপাশি বাইরের অনেকের নামও উঠে এসেছে। আমাদের কেস ডায়েরি নিজেই কথা বলছে। এরা প্রত্যেকেই এই বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশীদার।’ এদিন পার্থ সহ ৭ জন অভিযুক্তদের ১৪ দিনের জেল হেফাজত হয়েছে। আগামী ২ মার্চ আলিপুর আদালতে সিবিআই এজলাসে ফের এই মামলার শুনানি রয়েছে।
