অ-বিজেপি দলগুলির বৈঠকে কেন্দ্রের নিন্দা করে ফারুক আবদুল্লাহ বললেন, “তারা কি ২৪ কোটি মুসলমানকে চিনে পাঠাবে?”

শ্রীনগর ১২মার্চ:ন্যাশনাল কনফারেন্সের প্রধান এবং জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ কেন্দ্রের মোদি সরকারকে আবারও নিশানা করেছেন। আবদুল্লাহ বলেছেন, ধর্মীয় ভিত্তিতে দেশকে বিভক্ত করবেন না।মোদির উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, দেশের ২২-২৪ কোটি মুসলমানকে কি আপনারা সমুদ্রে ফেলে দিতে চান? নাকি চিনে পাঠিয়ে দিতে যান? উপত্যকায় অ-বিজেপি দলগুলির একটি বৈঠকে সভাপতিত্ব করার পরে জম্মুতে সাংবাদিকদের আবদুল্লাহ বলেন, দেশের সম্প্রদায়গুলিকে একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো উচিত নয়।
ফারুক আবদুল্লাহ আরও বলেন, ভয় ও ঘৃণার রাজনীতি নতুন নয়। ২২-২৪ কোটি মুসলমান নিয়ে তারা কি করবেন? তারা কি তাদের সাগরে ফেলে দেবেন নাকি চিনে পাঠাবেন?”
৩৭০ ধারা বাতিলের পর প্রায় সাড়ে ৩ বছর পার হয়ে গেছে। এখনও কাশ্মীরের পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ফেরানো হল না। এখনও নির্বাচন ঘোষণা করা হয়নি উপত্যকায়। এই পরিস্থিতিতে ফের একযোগে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে দিল কাশ্মীরের দলগুলি। ফারুক আবদুল্লাহর বাড়িতে কাশ্মীরের বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল বৈঠকে বসেছিল। সেই বৈঠক শেষে ফারুক বলেন, যেভাবে একটা পূর্ণরাজ্যের মর্যাদা সম্পন্ন রাজ্যকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করা হল, সেটা এই দেশের জন্য দুঃখজনক। আমরা অবিলম্বে পূর্ণরাজ্যের মর্যাদা ফেরানোর দাবি জানাব।
ফারুক আবদুল্লাহ বলেন, ‘গান্ধীজি রাম রাজ্যের কথা বলেছেন। রাম রাজ্য বলতে তিনি একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র বোঝাতে চেয়েছিলেন যেখানে সবাই সমান সুযোগ পাবে এবং কারও প্রতি বৈষম্য থাকবে না। আমাদের সকলের উচিত গান্ধীজির নীতি অনুসরণ করা। আবদুল্লাহ এক ডজনেরও বেশি দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। জম্মু ও কাশ্মীরে বিধানসভা নির্বাচন করা এবং কাশ্মীরের রাজ্যের মর্যাদা পুনরুদ্ধারের জন্য দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে দেখা করার সিদ্ধান্ত নিয়ে বৈঠকটি শেষ হয়েছে।
বৈঠকের পর তিনি বলেন, সম্পত্তি করের বিরুদ্ধে বনধের ডাক দিয়েছে জম্মু চেম্বার অফ কমার্স। যুবকদের লাঠিচার্জ করা হচ্ছে। এতে বোঝা যায় জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি ভাল নয়। মিডিয়ার সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে আবদুল্লাহ বলেন, জম্মু ও কাশ্মীরকে একটি পূর্ণাঙ্গ রাজ্য থেকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে রূপান্তর করা দেশের জন্য একটি ট্র্যাজেডি।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি ভিকার রসুল ওয়ানি, সিপিআই(এম) নেতা এম ওয়াই তারগামি, পিডিপি নেতা আমরিক সিং রিন, ন্যাশনাল প্যান্থার্স পার্টির নেতা হর্ষ দেব সিং, আম আদমি পার্টি (এএপি) নেতারা এবং উন্নয়ন পরিষদের সদস্য টি এস টনি।