কোভিড মহামারী চলাকালীন প্যারোলে মুক্তি পাওয়া সকল বন্দিকে ১৫ দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

নয়াদিল্লি ২৪মার্চ:কোভিড মহামারী চলাকালীন বহু জেলবন্দিকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। যাতে কোনওভাবে জেলে করোনা না ছড়িয়ে পড়ে।কোভিড আবহে মুক্তি পাওয়া সেই সকল সাজাপ্রাপ্ত জেলবন্দিদের দ্রুত জেলে ফেরার নির্দেশ দিল দেশের শীর্ষ আদালত। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট তাঁদের সবাইকে ১৫ দিনের মধ্যে জেলে গিয়ে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে।
বিচারপতি এমআর শাহ এবং সিটি রবিকুমারের বেঞ্চ রায় দেওয়ার সময় জানায়, বিচারাধীন যে সকল বন্দিরা করোনা মহামারির সময় জরুরি ভিত্তিতে জামিন পেয়েছিল, তাঁদের খুব শীঘ্রই আত্মসমর্পণ করতে হবে। এর পরে তাঁরা আদালতে গিয়ে জামিনের আবেদন করতে পারেন। এবং সেক্ষেত্রে বিচারক তাঁর বা তাঁদের অপরাধ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে পারেন।
ছোটখাটো অপরাধের সঙ্গে যুক্ত এমন বেশ কিছু দোষী সাব্যস্ত এবং বিচারাধীন বন্দিকে করোনা আবহে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। জেলের ভিতর ভিড় কমানোর জন্যই কোভিড সময়কালে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। শীর্ষ আদালতের নির্দেশনা অনুসারে গঠিত উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন এক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বিভিন্ন রাজ্যে এই পদক্ষেপ নিতে হবে।
উল্লেখ্য,কোভিড মহামারী চলাচলাকালীন প্যারোলে মুক্তি পাওয়া বন্দিদের দ্রুত জেলে ফেরানো যাবে না।সকল রাজ্যকে এই নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। ফলে, স্বস্তি পেয়েছিল প্যারোলে মুক্তি পাওয়া পশ্চিমবাংলার প্রায় ৩ হাজার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দির।
দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ না আসা পর্যন্ত ওই বন্দিদের জেলে ফিরিয়ে আনা যাবে না বলে রাজ্য সরকারকে নির্দেশ পাঠিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। স্বাভাবিকভাবেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে খুশি ছিল প্যারোলে মুক্তি পাওয়া যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দিরা। এদের মধ্যে রয়েছে টাডা আইনে অভিযুক্ত বউবাজার বিস্ফোরণকাণ্ডের মূল মাথা রশিদ খানও। ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের নয়া নির্দেশ রাজ্য কারা দফতরের কাছে এসে পৌঁছেছে।
এই বিষয়ে রাজ্য কারা দফতরের অতিরিক্ত ডিজি বলেন,’কোভিড পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আমরা প্রায় ৩ হাজার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দিকে বিভিন্ন জেল থেকে মুক্তি দিয়েছিলাম এক মাসের জন্য। মুক্তির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যেতে আমরা তাদের আবার যে যার জেলে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিলাম। তার মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ আমাদের কাছে এসে পৌঁছায়। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনে আমাদের সেই প্রস্তুতির কাজ বন্ধ রেখেছিলাম। সুপ্রিম কোর্ট এখন যা নিদের্শ দিয়েছে সেটাই আমরা পালন করব।’
কোভিড পরিস্থিতির কারণে প্যারোলে মুক্তির দাবিতে রাজ্যের বিভিন্ন জেলে বিক্ষোভ বাড়ছিল। এই দাবিতে রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল দমদম সেন্ট্রাল জেল। তার জের গিয়ে পৌঁছে ছিল প্রেসিডেন্সি জেলেও। তাদের কথা মাথায় রেখে কোভিড পরিস্থিতির জন্য শুধুমাত্র যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত প্রায় ৩ হাজার বন্দিকে প্যারোলে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট।অবশেষে তার মেয়াদ শেষ হল।এবার তাদের জেলে ফেরার পালা।