ভোপাল, ১০ মে: মধ্যপ্রদেশের এক ক্যাথলিক এতিমখানায় সরকারি কর্মকর্তাদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দুই ধর্মযাজককে গ্রেফতার করা হয়েছে। জানা গেছে, ওই দুই সরকারি কর্মকর্তা এতিমখানায় আচমকা পরিদর্শনে এসে তাদের কাজে বাধার সম্মুখীন হন। গ্রেফতারের কয়েকঘণ্টা পরেই গত ৮ মে জামিনে মুক্তি পান ওই দুই ক্যাথলিক যাজক। মধ্যপ্রদেশের সাগর ডায়োসিসের সেন্ট ফ্রান্সিস সেবাধাম এতিমখানার বিরুদ্ধে ধর্মান্তরণের অভিযোগ উঠেছে। পরিদর্শনে আসা রাজ্যের শিশু অধিকার প্যানেলের সদস্যদের বাধা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় ওই দুই ধর্মযাজককে।
সাগর ডায়োসিসের ফাদার, ডিরেক্টর ই পি যোশী জানান, পরিদর্শনে আপত্তি জানানোর পর আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়। ফাদার বি -এর সঙ্গে তাকে পুলিশ গ্রেফতার করে।
যোশী জানান, ন্যাশনাল কমিশন ফর প্রোটেকশন অফ চাইল্ড রাইটস-এর চেয়ারপার্সন প্রিয়াঙ্ক কানুনগোর নেতৃত্বে আচমকা একটি দল এতিমখানা পরিদর্শনে আসেন। দলটি পরিদর্শন করার পাশাপাশি গির্জা, কনভেন্ট, প্রার্থনাসভা এবং শিশুদের দুটি হোস্টেলেও পরিদর্শন চালায়।
ফাদার নবীন জানান, প্রতিনিধি দলকে জানানো হয়েছিল প্রার্থনা সভা একটি পবিত্র জায়গা, তার পরেও তারা বেদির উপর দাঁড়িয়ে পড়ে পবিত্র সামগ্রীগুলি ধবংস করে।
ফাদার, ডিরেক্টর সিন্টো ভার্গিস বলেন, তারা অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও প্রমাণ দিতে পারেনি। এতিমখানার কর্মকর্তাদের মতে দলটি কম্পিউটার, সিসিটিভি, মোবাইল ফোন এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি ধ্বংস করেছে এমনকি ধর্মান্তরিত করার অভিযোগ তুলেছে।
উল্লেখ্য, হিন্দুত্ববাদী দল শাসিত রাজ্যে মধ্যপ্রদেশে এতিমখানা শিশু অধিকার প্যানেলের স্ক্যানারে পরিদর্শন এই প্রথম নয়। ২০২২ সালে জেলা শিশু কল্যাণ কমিটির পক্ষ থেকে ৪৪ জন শিক্ষার্থীকে জোর করে গরুর মাংস খাইয়ে ধর্মান্তকরণের অভিযোগ তোলা হয়েছিল। পরে মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়।
জানা গেছে, সাগর ডায়োসিসের সেন্ট ফ্রান্সিস সেবাধাম
এতিমখানাটি ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ আমলে চার্চকে দেওয়া ২৭৭ একর জমির উপর অবস্থিত। অভিযোগ, হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি জমি হাতানোর জন্য চার্চগুলিকে টার্গেট করেছে।
