শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে কামদুনি গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ফাঁসির বদলে আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল আদালত ।দোষী আনসার আলি মোল্লা এবং সইফুল আলি মোল্লাকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ। বেকসুর খালাস আমিন আলি, ইমানুল হক, ভোলানাথ নস্কর এবং আমিনুর ইসলাম। কামদুনি গণধর্ষণ মামলায় ফাঁসির নির্দেশ রদ করল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। তিনজনের ফাঁসির সাজা রদ করা হল। বদলে আমৃত্যু যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সইফুল আলি মোল্লা, এবং আনসার আলি মোল্লার। অন্যদিকে, ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত আমিন আলিকে জেলমুক্ত করল আদালত। গণধর্ষণ কাণ্ডের অন্য অভিযুক্ত ভোলা নস্কর, আমিনুর ও ইমানুরের সাজাও কমানো হল।আমৃত্যু কারাদণ্ডের বদলে ১০ বছর সাজার নির্দেশ দিল ডিভিশন বেঞ্চ। । ৬ দোষী সাব্যস্তের মধ্যে ১ জনকে বেকসুর খালাস করল আদালত। রায় শুনে ক্ষুব্ধ নির্যাতিতার পরিবার। এজলাসের বাইরে তুমুল হট্টগোল চলে এদিন।আদালত সুত্রে প্রকাশ, ২০১৩ সালের ৭ জুন উত্তর ২৪ পরগনার কামদুনিতে কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ করে নৃশংসভাবে খুন করার ঘটনা ঘটে। ১০ বছর আগে কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় তোলপাড় হয়েছিল গোটা রাজ্য। রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি তদন্ত শুরু করে সেই মামলায়।সেই কামদুনি মামলারই হাইকোর্টের রায়দান ছিল এদিন । ইতিমধ্যেই ৬ অভিযুক্তের সাজা ঘোষণা করেছিল নিম্ন আদালত। পরে সেই মামলা কলকাতা হাইকোর্টে আসে। কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি অজয় কুমার গুপ্তার ডিভিশন বেঞ্চ কামদুনি মামলার রায় ঘোষণা করল।ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে প্রাথমিক ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছিল ৯ জনকে। পরে প্রমাণের অভাবে দু’জনকে জামিন দেওয়া হয়। তারপরে মামলা চলাকালীন মৃত্যু হয় আরেক অভিযুক্তের।নিম্ন আদালতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল সইফুল মোল্লা, আনসার মোল্লা, আমিন আলি, এমানুল হক, ভোলানাথ নস্কর ও আমিনুল ইসলামকে। শরিফুল আলি, আনসার আলি ও আমিন আলিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল নিম্ন আদালত। বাকি তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের শাস্তি ঘোষণা করা হয়েছিল।নিম্ন আদালতের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছিল সাজাপ্রাপ্তেরা। গত ২৪ জুলাই হাইকোর্টে বিচারপতি বাগচির ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি শেষ হয়।শুক্রবার ডিভিশন বেঞ্চে রায়দান হলো।
