২০২৩ সালের বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে ১২৫টি দেশের মধ্যে ১১১ তম স্থানে ভারত, তথ্য ত্রুটিপূর্ণ দাবি মোদি সরকারের

নয়াদিল্লি, ১৩ অক্টোবরঃ ভারত প্রযুক্তির দিয়ে এগিয়ে রয়েছে, আত্মনির্ভর দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সম্প্রতি চাঁদে নেমেছে চন্দ্রযান-৩। এসেছে ৫-জি ইন্টারনেট পরিষেবা। এই সব কিছুর মধ্যেই বিশ্ব ক্ষুধাসূচকের তালিকা প্রকাশিত হল। আর সেই সূচক অনুযায়ী পিছিয়ে ভারত। ১২৫টি দেশের মধ্যে ১১১ তম স্থানে রয়েছে দেশের নাম। ২০২৩ সালের বিশ্ব ক্ষুধা সূচক প্রকাশিত হওয়ার পরেই বেশ কিছুটা চাপে মোদি নেতৃত্বাধীন দিল্লি সরকার। কারণ আগামী নভেম্বর মাসে মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান সহ পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে বিশ্ব ক্ষুধা সূচক সমীক্ষার ফলপ্রকাশকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল
বিশ্ব ক্ষুধা সূচক বা গ্লোবাল হাঙ্গার সূচকে ১১১ তম স্থানে নেমে গেল ভারত। ২০২২ সালে ১২১ দেশের মধ্যে ১০৭ তম স্থানে ছিল ভারত। পয়েন্ট ছিল ২৮.৭। সেই স্থানও ধরে রাখতে পারল না, ভারত। ২০২৩-এর সূচকে এবার আরও পিছিয়ে দেশ। পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কার পরে রয়েছে ভারতের নাম। তবে এই সূচকের তথ্য মানতে নারাজ দিল্লি সরকার। তাদের দাবি, ত্রুটিপূর্ণ হিসেব করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ২০২৩ সালের বিশ্ব ক্ষুধা সূচক প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে ১১১তম স্থানে রয়েছে ভারত। অনাহারে থাকা মানুষের সংখ্যার দিক দিয়ে ভারতের স্কোর ২৮.৭। ভারতে অপুষ্টির হার দেখানো হয়েছে ১৬.৬ শতাংশ। অনূর্ধ্ব পাঁচ বছরের শিশুদের মৃত্যুর হার ৩.১ শতাংশ। অপুষ্টিতে ভোগা, বয়স অনুযায়ী উচ্চতা এবং ওজনের মধ্যে ভারসাম্য না থাকা শিশুর হার ১৮.৭ শতাংশ। ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সি মহিলাদের মধ্যে ৫৮.১ শতাংশ রক্তাল্পতার শিকার।
বিশ্ব ক্ষুধা সূচক, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অনাহারে থাকা মানুষ সহ অপুষ্টির হার, শিশুমৃত্যু সম্পর্কিত তালিকা সহ মহিলাদের স্বাস্থ্য কোন জায়গায় কেমন তার সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে। ০ থেকে ১০০-র মাপকাঠি রাখা হয় এক্ষেত্রে। কোনও দেশ ০ পেলে, বুঝতে হবে, সেই দেশে অনাহার, অপুষ্টির সমস্যা নেই। সংখ্যা যত যোগ হবে, বুঝতে হবে পরিস্থিতি ততই খারাপ।
সূচক অনুযায়ী, আফগানিস্তান, ইয়েমেন, হাইতির মতো দেশের থেকে উপরের স্থানে রয়েছে ভারত। তবে পাকিস্তান, বাংলাদেশ থেকেও পিছিয়ে পড়েছে ভারত। ২০২৩-এর বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে পাকিস্তান ১০২তম স্থানে, বাংলাদেশ রয়েছে ৮১তম স্থানে, নেপাল ৬৯তম এবং শ্রীলঙ্কা ৬০তম স্থানে রয়েছে।
দেশের মহিলা এবং শিশুকল্যাণ মন্ত্রক বিবৃতি জারি করে বলেছে, ‘এই হিসেবে পদ্ধতিগত ত্রুটি রয়েছে। শিশুদের স্বাস্থ্যবিচারে চারটির মধ্যে তিনটি সূচক সামগ্রিক জনসংখ্যার মাপকাঠি হতে পারে না’। তাদের আরও দাবি, ক্ষতিসাধনের উদ্দেশেই এই ত্রুটিপূর্ণ পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে।