ভিসা জটিলতা, বেনাপোল-পেট্রোপোল যাত্রী পারাপার গত ৩মাসে কমেছে ১ লাখ ৪২ হাজার

নয়াদিল্লি ও ঢাকা ১৩অক্টোবর:পেট্রোপোল ও বেনাপোল ভারত এবং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ও বৃহত্তম স্থলবন্দর। চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও ভ্রমণের জন্য বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার মানুষ এ চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে আসে। কিন্তু গেল তিন মাসে যাত্রীর সংখ্যা অনেক কমে গেছে।সংবাদসূত্রের খবর, ভিসা জটিলতা, ভ্রমণকর বৃদ্ধি ও বেনাপোল-পেট্রাপোল চেকপোস্টে নানা হয়রানির কারণে এ চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্ট যাত্রী কমে গেছে। এতে ভ্রমণকর বাবদ রাজস্ব আদায়ও কমেছে বাংলাদেশের,এ দাবিও করা হয়েছে।
সংবাদ সূত্রে জানা গেছে,গত তিন মাসে ভারতগামী বেনাপোল-পেট্রোপোলে যাত্রী কমেছে ১ লাখ ৪২ হাজার।
যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে ভারতগামী যাত্রীর সংখ্যা কমেছে।বাংলাদেশের অভিবাসন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভ্রমণ কর বৃদ্ধি, ভিসা পাওয়ার দীর্ঘ প্রক্রিয়া এবং বাংলাদেশ-ভারত চেকপোস্টে বিভিন্ন হয়রানির কারণে যাত্রীর হার কমেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসা, ব্যবসা, শিক্ষা ও ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে বেশিরভাগ বাংলাদেশি যাত্রী ভারতে আসেন। ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ৫ লাখ ৬৮ হাজার ৭৯৮ জন যাত্রী ভারতে ভ্রমণ করেছেন। ভিসা পেতে বিলম্ব, হয়রানি এবং ভ্রমণ কর বৃদ্ধির পর ২০২৩-২৪ আর্থিক বছরের প্রথম তিন মাসে ৪ লাখ ২৬ হাজার ৬৩৯ যাত্রী ভারতে ভ্রমণ করেছিলেন। একই সময়ে যাত্রী কমেছে ১ লাখ ৪২ হাজার ১৫৯ জন।
বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা সুবিধা পাওয়ার জন্য ২৮ জানুয়ারী ২০১৩ তারিখে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। ওই চুক্তি অনুযায়ী ৬৫ বছরের বেশি বয়সী বাংলাদেশিদের পাঁচ বছরের ভিসা পেতে হবে। ৬৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য এক বছরের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের তিন-পাঁচ বছরের ভিসা দেওয়া হয়েছে। আগে আবেদন করলে ১০-১৫ দিনের মধ্যে ভিসা পাওয়া যায়, কিন্তু এখন দুই-তিন মাসেও সম্ভব নয়। আর ভিসা দিলেও তার মেয়াদ তিন থেকে ছয় মাস।

এ বিষয়ে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বিশ্বাস সংবাদ সংস্থাকে জানান, আগে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ হাজার যাত্রী যাতায়াত করতেন। এখন সেখানে প্রতিদিন যাতায়াত করছেন মাত্র ৪ থেকে ৫ হাজার যাত্রী।
এ ছাড়া ভারতে আসার সময় বেনাপোল ইমিগ্রেশনের কাজ সহজে সম্পন্ন হলেও ভারতে ঢোকার সময় ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা নোম্যান্স ল্যান্ড এলাকায় রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় যাত্রীদের,এমন অভিযোগও উঠেছে। বেনাপোল সোনালি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মো. মহসিন আলি সংবাদ সংস্থাকে জানান, আগের তুলনায় যাত্রী যাতায়াত কমে যাওয়ায় ভ্রমণকর থেকে যে ট্যাক্স আদায় হয় তা কম আদায় হচ্ছে। বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) আব্দুল জলিল জানান, শুনেছি ভারতীয় ভিসা পেতে অনেক সময় লাগার কারণে যাত্রী কমে গেছে। আশা করছি খুব শিগগিরই যাত্রী যাতায়াত স্বভাবিক হবে।