কেন্দ্রীয় আর্থিক তদন্তকারী সংস্থা ইডির গাইডলাইন বেঁধে দিল কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চ।গত শুক্রবার রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায় এর দাখিল মামলার শুনানি শেষ হয়েছিল। রায়দান স্থগিত ছিল।মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চের বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্যের এজলাসে এই মামলার রায়দান ঘটে। ইডির তল্লাশি নিয়ে খবর করায় সংবাদমাধ্যমের একাংশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক পত্নী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায় । তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই ইডিকে গাইডলাইন দিল কলকাতা হাইকোর্ট । কী বলা হয়েছে সেই গাইডলাইনে ? রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইডিকে গাইডলাইন বেঁধে দিল কলকাতা হাইকোর্ট ।সংবাদমাধ্যমের ভূমিকায় অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশের মাধ্যমে মঙ্গলবার এই গাইডলাইন দেন বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য । গাইডলাইনে বলা হয়েছে ১/যেকোন কোনও জায়গায় তল্লাশি ও অনুসন্ধান করার সার্চ অ্যান্ড সিজারের সময় কোনও লাইভ স্ট্রিমিং করা যাবে না ।২/তল্লাশিকে সময় ইডি আগে থেকে সার্চ অ্যান্ড সিজারের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে জানাতে পারবে না ।৩/মিডিয়াকে নিয়ে গিয়ে কোনওরকম তল্লাশি করতে পারবে না ইডি ।৪/সার্চ অ্যান্ড সিজারের বিষয়ে আগে থেকে কোনওরকম প্রকাশ্যে আনা যাবে না ।৫/সংবাদমাধ্যম কোনও খবর করলে সেখানে অভিযুক্তের ছবি ব্যবহার করা যাবে না ।৬/চার্জশিটের আগে কোনওরকম ছবি ছাপা যাবে না ।আদালতের উপরোক্ত নির্দেশ অমান্য করা হলে সেই নির্দিষ্ট সংবাদসংস্থার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করতে পারবেন রুজিরা বা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় । দু’পক্ষকেই হলফনামা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি ।এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী বছর এর জানুয়ারি মাসে ।কেন্দ্রীয় তদন্তকারী কে সামনে রেখে একশ্রেণির সংবাদমাধ্যম তাঁদের নামে মিথ্যা খবর প্রচার করছে এই দাবি করে মামলা করেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী রুজিরা নারুলা বন্দ্যোপাধ্যায় । কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য গত সপ্তাহে টানা শুনানি করার পর মামলার রায়দান স্থগিত রেখেছিলেন । এদিন সেই মামলার নির্দেশে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার জন্য গাইডলাইন বেঁধে দিলেন বিচারপতি ।প্রসঙ্গত, এই মামলার শুনানিতে ইডির তরফে আদালতে সওয়াল করা হয়েছিল । তাঁরা রুজিরার বিরুদ্ধে কী অভিযোগে সমন পাঠিয়েছে বা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে তা তাদের ওয়েবসাইটে প্রেস রিলিজের মাধ্যমে জানানো হয়েছে । বড় সংবাদমাধ্যমে যদি ভুল খবর পরিবেশন করা হয় তার বিরুদ্ধে তারা ব্যবস্থা নিতে পারে । কিন্তু ছোট ছোট পোর্টাল ও ইউটিউব চ্যানেলগুলোতে যে প্রচার হচ্ছে তার বিরুদ্ধে তাদের কিছু করার নেই । পাশাপাশি ইডি একটি স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থা । কোনও গসিপ ম্যাগাজিন নয় ।একইসঙ্গে রুজিরার কড়া সমালোচনা করে একজন বিদেশি নাগরিক ভারতীয় সংবিধান প্রদত্ত ভারতীয় নাগরিকদের ১৯ ও ২১ ধারা খর্ব করার আবেদন জানাতে পারে না বলেও কটাক্ষ করেছিল ইডি । নাগরিক হিসাবে গোপনীয়তা বজায় রাখার আর্জি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী রুজিরা নারুলা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য , -‘সংবাদমাধ্যমে পারিবারিক গোপনীয়তার অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। অর্ধসত্য খবর প্রকাশিত হচ্ছে’। সংবিধান মেনে রক্ষাকবচের আর্জি জানিয়েছিলেন তিনি। এদিন কার্যত তা তিনি পেলেন।
