৫ বছরের নিষেধাজ্ঞা, ইউএপিএ ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন পিএফআইয়ের

নয়াদিল্লি ২০অক্টোবর:পপুলার ফ্রন্ট অব ইন্ডিয়া বা পিএফআই সংগঠনকে ইউএপিএ আইনের অধীনে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে কেন্দ্র ।এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছে সংগঠনটি ।পিএফআই তার পিটিশনে ইউএপিএ ট্রাইব্যুনালের ২১ মার্চের আদেশকে চ্যালেঞ্জ করেছে।সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অনিরুদ্ধ বোস এবং বেলা এম ত্রিবেদীর একটি বেঞ্চে এই আবেদনের শুনানি হবে।বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইনের অধীনেই পপুলার ফ্রন্ট অব ইন্ডিয়া সংগঠনকে নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। ৫ বছরের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে। শুধু পিএফআই-ই নয়, এরসঙ্গে যুক্ত একাধিক সংগঠন যেমন সিএফআই, অল ইন্ডিয়া ইমাম কাউন্সিল, রিহ্যাব ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন, ন্যাশনাল ওমেন্স ফ্রন্টকেও বেআইনি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত সংগঠন বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এই সমস্ত সংগঠনকেই নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে কেন্দ্রের তরফে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়, পপুলার ফ্রন্ট অব ইন্ডিয়া নামক উগ্র মৌলবাদী সংগঠনের সঙ্গে স্টুডেন্টস ইসলামিক মুভমেন্ট অব ইন্ডিয়া, বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠন জামাত-উল-মুজাহিদ্দিন ও সিরিয়ার আইসিস সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের যোগ পাওয়া গিয়েছে। দেশবিরোধী কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণের সাপেক্ষেই এই সংগঠনকে নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করা হচ্ছে।
সম্প্রতিই দেশজুড়ে পিএফআই সংগঠনের বিরুদ্ধে বড় অভিযান চালায় কেন্দ্র। ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি ও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট যৌথ অভিযান চালায় দেশের ১৫টি রাজ্যে। তামিলনাড়ু, কেরল, কর্নাটক, অন্ধ্র প্রদেশ, তেলঙ্গানা, পশ্চিমবঙ্গ সহ একাধিক রাজ্যের মোট ৯৩টি জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালায় দুই কেন্দ্রীয় বাহিনী। বেআইনি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে পিএফআই নেতা-সমর্থক মিলিয়ে শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর ফের দেশের একাধিক প্রান্তে পিএফআই সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। গ্রেফতারও করা হয় একাধিক শীর্ষ নেতাকে।
এই অভিযানের পরই বৈঠকে বসেছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। ওই বৈঠকেই পিএফআই-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত সপ্তাহের বৈঠকে হাজির ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।