সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে শুধুমাত্র লাইক দেওয়া আইটি আইনের অধীনে অপরাধ নয় : ইলাহাবাদ হাইকোর্ট

ইলাহাবাদ ২৮অক্টোবর:ইলাহাবাদ হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, সোশ্যাল মিডিয়ায় শুধুমাত্র একটি পোস্ট লাইক করা তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৬৭ ধারার অধীনে অপরাধ নয়।
হাইকোর্ট বলেছে, এই ধরনের পোস্ট শেয়ার করা বা পুনরায় পোস্ট করা “ট্রান্সমিশন” হিসাবে গণ্য হবে যা আইনের ৬৭ ধারার (ইলেকট্রনিক আকারে অশ্লীল উপাদান প্রকাশ বা প্রেরণের শাস্তি) সঙ্গে সম্পর্কিত।এমনটাই মন্তব্য করেছেন বিচারপতি অরুণ কুমার সিং দেশওয়াল। আইটি আইনের ৬৭ ধারা এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির অন্যান্য ধারার অধীনে দায়ের করা আগ্রার মোহম্মদ ইমরান কাজির বিরুদ্ধে ঝুলে থাকা ফৌজদারি মামলা খারিজ করে মন্তব্য বিচারপতির।বিচারপতি তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘যদিও আইটি আইনের অধীনে অশ্লীল বিষয়বস্তু প্রেরণ করা একটি অপরাধ। তবে এই কেসটিতে ব্যক্তি জনৈক ফরহান উসমানের পোস্ট করা একটি বেআইনি সমাবেশের পোস্টে লাইক করেছেন মাত্র।
মোহম্মদ ইমরানের বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা নথিভুক্ত হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘উস্কানিমূলক’ বার্তাগুলি লাইক করার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে দাখিল হয়েছিল একটি চার্জশিট। অভিযোগ উঠেছিল অনুমতি ছাড়াই মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রায় ৬০০-৭০০ জনকে একটি মিছিলের আয়োজন করা হয়। আর সেই বেআইনি সমাবেশের পোস্টেই লাইক করেছিলেন ইমরান। আগ্রার সিজেএম আদালত চার্জশিটটি গ্রহণ করে ও ৩০ জুন, ২০২৩-এ ব্যক্তির বিরুদ্ধে অ-জামিনযোগ্য ওয়ারেন্ট জারি করে।কাজির আইনজীবী যুক্তি দিয়েছেন, তার মক্কেল অপরাধ করেছেন বলে যা বলা হচ্ছে, আদতে তা কোনও অপরাধই নয়।তিনি কেবল একটি পোস্ট লাইক করেছেন।
মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা আদালতকে বলেন, কাজি সমাবেশের আহ্বান জানিয়ে একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট লাইক করেছিলেন। যাইহোক, কর্মকর্তা ইমরান কাজি যে পোস্টটি শেয়ার করেছেন বা তৈরি করেছেন তার সমর্থনে কোনও প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হন।
আদালত অবশ্য পর্যবেক্ষণ করেছে যে শুধু পোস্টে লাইক দেওয়া আইনের ৬৭ ধারার মধ্যে পড়েনা। আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করেছে এই পোস্টটি অশ্লীল এবং “উস্কানিমূলক” নয়।