মুজফফরনগর ১ডিসেম্বর:উত্তরপ্রদেশে মুজফফরনগরের শ্রীরাম কলেজের অনুষ্ঠানে এক ফ্যাশন শো-এর বন্দোবস্ত করা হয়েছিল। আর ফ্যাশন শো মানেই নানারকমের বাহারি পোশাকের মেলা। কিন্তু এই ফ্যাশন শো সেই চেনা ছকে হাঁটেনি। এখানেও র্যা ম্প ছিল, ছিল র্যা ম্প ওয়াকও, কিন্তু সেখানে যে তরুণীরা হেঁটেছেন তাঁদের সকলেরই আপাদমস্তক ঢাকা ছিল বোরখায়। পরনে বোরখা, মাথা ঢাকা হিজাবে, এইভাবেই ফ্যাশনিস্তার মতো আদবকায়দায় র্যা ম্প ধরে একের পর এক হেঁটে গিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু সেই ঘটনা ঘিরেই উসকে উঠেছে বিতর্ক। বোরখা পরে র্যা ম্পে হেঁটে বোরখার অসম্মান করেছেন ওই তরুণীরা, এই মর্মে অভিযোগ এসেছে মুসলিম ধর্মীয় সংগঠনের তরফে।
মুজাফফরনগরে জমিয়তে উলামা-ই-হিন্দের আহ্বায়ক মাওলানা মুকাররম কাসমি এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছেন, অনুষ্ঠানের আয়োজকরা একটি ধর্মকে লক্ষ্য করে ঐতিহ্যবাহী পোশাকের অসম্মান করেছেন।এজন্য তিনি আয়োজকদের ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।কাসমি বলেন, বোরখা সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় তাৎপর্য ধারণ করে, যা ‘পর্দা’-র ঐতিহ্যকে প্রতিনিধিত্ব করে।”বোরখাকে একটি ফ্যাশন শোতে প্রদর্শনের জন্য একটি আইটেম হিসাবে বিবেচনা করা একেবারেই উচিত হয়নি।” তিনি বলেন, ঘটনাটি পোশাকের সঙ্গে যুক্তদের সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধে যায়৷
কাসমি এমনভাবে বোরখা ব্যবহারের নিন্দা করেন এবং কলেজ কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে ক্ষমা চাইতে হবে বলে দাবি জানান। তিনি বলেন, “তারা ক্ষমা চাইতে ব্যর্থ হলে, আমাদের সংগঠন কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেবে।”
মুজফ্ফকরনগরের শ্রীরাম কলেজের অধ্যাপক মনোজ জানিয়েছেন,ওই মুসলিম তরুণীরা একটি বিশেষ বার্তা দেওয়ার জন্যই হিজাব ও বোরখা পরে ফ্যাশন শো করতে চেয়েছিলেন। তাঁদের বক্তব্য, পোশাকের স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে ফ্যাশনের আদতে কোনও বিরোধ নেই। কেউ যদি বোরখা ছাড়া স্বচ্ছন্দ না হন, তবে তিনি বোরখা পরেই কেতাদুরস্ত হয়ে থাকতে পারেন, এমনটাই প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন তাঁরা। সেই কারণেই নানা রঙের, নানা ধরনের বোরখা ও হিজাব পরে তাঁরা র্যা ম্পে হেঁটেছেন।
মাওলানা মুকর্চরম কাশমি জানিয়েছেন, বোরখা কখনও ফ্যাশন প্রদর্শনের জিনিস হতে পারে না। এর মাধ্যমে মুসলিম সম্প্রদায়ের মনে আঘাত লেগেছে। সংগঠনের তরফে বলা হয়েছে, ‘‘ফ্যাশন শো করতে চাইলে করুন। কিন্তু কোনও ধর্মকে নিশানা করবেন না।’’
