হায়দরাবাদ ৪ডিসেম্বর:তাঁর উপর অনেক আস্থা, আশা-ভরসা রেখেছিলেন কংগ্রেস নেতৃত্ব।দল জিতলেও তিনি জিততে পারলেন না। কিন্তু রাজনীতির খেলায় এ বার ব্যর্থই হলেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক মহম্মদ আজহারউদ্দিন। ঘরের মাঠে ডাহা ফেল করল তাঁর কৌশল ‘কব্জির মোচড়’। প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত রাষ্ট্র সমিতির (বিআরএস) মগন্তি গোপীনাথের কাছে ‘ক্লিন বোল্ড’ হয়ে গেলেন প্রাক্তন ক্রিকেটার। তিনি ১৬৩৩৭ ভোটে হেরে গেলেন।তেলঙ্গানার জুবিলি হিল্স থেকে এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে লড়েছিলেন ‘আজ্জু’ (ক্রিকেট দুনিয়ায় এই নামেই পরিচিত তিনি)। মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান এবং ছত্তীসগড়— এই তিন রাজ্যে যখন গেরুয়া ঝড় চলছে, তখন কংগ্রেস একমাত্র আশার আলো দেখিয়েছে তেলঙ্গানা। তবে দলের ‘হাত’ মজবুত হলেও নেতৃত্বকে আশাহত করলেন প্রাক্তন অধিনায়ক। রবিবার ভোটগণনার শুরু থেকে অবশ্য এগিয়ে ছিলেন আজহার। আট রাউন্ড পর্যন্ত এগিয়ে থাকলেও নবম রাউন্ড থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী বিআরএস প্রার্থী গোপীনাথের থেকে দেড় হাজারের বেশি ভোটে পিছিয়ে পড়েন। সেই ব্যবধান কমেনি। বরং রাউন্ড যত এগিয়েছে, তত বেড়েছে।
প্রসঙ্গত, নির্বাচনের পর পরই আজহার জানিয়েছিলেন, এটি তাঁর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ লড়াই। একই সঙ্গে জোরগলায় দাবি করেছিলেন, জুবিলি হিল্সের মানুষ তাঁকে খুবই পছন্দ করেন। এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত তাঁরা তাঁর পাশেই থাকবেন। কিন্তু আজহারের সেই দাবি ভুল প্রমাণ করল তাঁর নিজের ‘গড়’ই। দল তাঁর উপর আস্থা রাখলেও আস্থা রাখতে পারলেন না জুবিলি হিল্সের ভোটদাতারা। ফলে রাজনীতির ময়দানে জয়ের ‘ট্রফি’ তুলে নিলেন বিআরএস প্রার্থী গোপীনাথ।
লোকসভা নির্বাচনে ‘বাইরের মাঠে’ প্রার্থী হলেও এ বার বিধানসভা নির্বাচনে ‘ঘরের মাঠে’ প্রার্থী হয়েছিলেন ‘আজ্জু’। তা-ও আবার নিজের ‘গড়’ হিসাবে পরিচিত জুবিলি হিল্সে। কংগ্রেসের পি বিষ্ণুবর্ধন রেড্ডিকে পিছনে ফেলে ভোটে লড়ার টিকিট ছিনিয়ে নেন আজহার। ঘটনাচক্রে, ২০০৪ এবং ২০০৯ সালে এই আসনেই জিতেছিলেন বিষ্ণুবর্ধন। কিন্তু ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিআরএস নেতা গোপীনাথের কাছে হেরে গিয়েছিলেন তিনি। এ বার বিষ্ণুবর্ধনের থেকে আজহারের উপরই বেশি আস্থা রেখেছিলেন কংগ্রেস নেতৃত্ব।কিন্তু তাদের আশা পূরণ হলনা।
