পাকিস্তানের হয়ে চরবৃত্তি ! ভারতীয় সেনা মেজর বরখাস্ত

নয়াদিল্লি ৭ডিসেম্বর:পাকিস্তানকে তথ্য পাচারের অভিযোগ। এক সেনা অফিসারকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। মেজর পদাধিকারী ওই ব্যক্তি স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ড (এসএফসি) ইউনিটে কর্মরত ছিলেন। সেনা অফিসারকে বরখাস্ত করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির এহেন পদক্ষেপকে নজিরবিহীন বলছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।ফেসবুকের মাধ্যমে একজন পাকিস্তানি গোয়েন্দা অপারেটিভের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বরখাস্ত অফিসার, ডিসেম্বর ২০১২ সালে রেজিমেন্ট অফ আর্টিলারিতে কমিশনপ্রাপ্ত, সেনাবাহিনীতে তার ১১ বছরের মেয়াদে বিভিন্ন ইউনিট এবং নিয়োগে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তার শেষ পোস্টিং ২০২১ সালের মার্চের প্রথম সপ্তাহে একটি কৌশলগত বাহিনী ইউনিটের সঙ্গে ছিল, যেখানে তিনি স্ট্র্যাটেজিক ফোর্স কমান্ড স্কুলে ‘মিসাইল ফাউন্ডেশন কোর্সে’ যোগদান করেছিলেন।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, অভিযুক্ত মেজর তাঁর ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসে সেনার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গোপন তথ্য রেখেছিলেন। যা পুরোপুরি বেআইনি। এছাড়া পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের সঙ্গে সোশাল মিডিয়ায় চ্যাটিংয়ে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রমাণ মিলিছে।

উল্লেখ্য, সেনার বেশ কয়েকজন উচ্চ পদস্থ অফিসারের সঙ্গে অভিযুক্ত মেজরের গাঢ় বন্ধুত্ব ছিল। সূত্রের খবর, তাঁরা সকলেই ‘পাতিয়ালা পেগ’ নামের একটি হোয়াটসঅ্য়াপ গ্রুপ তৈরি করেছিলেন। এই গ্রুপের সকল সদস্যকে নিয়েও তদন্ত চালাচ্ছে ফৌজ। তাঁদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, তাঁদের কোর্ট অফ এনকোয়ারিতে তলব করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এভাবে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে কথোপকথনের জন্য ব্রিগেডিয়ার ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদের আরও দুই সেনা অফিসারকে শো-কজ নোটিস দিয়েছে ফৌজ। এছাড়া আরও চারজন অফিসারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এদের মধ্যে দু’জন দিল্লির সেনা সদরে মিলিটারি ইনটেলিজেন্সে কর্মরত ছিলেন। তাঁরা কী কী ধরনের তথ্য পাচার করছেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গত বছরের মার্চে অভিযুক্ত অফিসারের বিরুদ্ধে তদন্ত করে সেনা। এর জন্য একগুচ্ছ অফিসারকে নিয়ে একটি বোর্ডও তৈরি করা হয়েছিল। তাঁদের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই রাষ্ট্রপতি এই পদক্ষেপ করেছেন বলে খবর সূত্রের।

স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ডের তরফে অভিযুক্তের যাবতীয় ডিজিটাল ডিভাইসগুলি বাজেয়াপ্ত করতে বোর্ড অফ অফিসার্সদের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। মেজর পদের ওই ব্যক্তি গুপ্তচরবৃত্তির সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ। সূত্রের খবর, তাঁর কিছু সন্দেহজনক লেনদেনের হদিশ মিলেছে। এছাড়া সোশাল মিডিয়ার নির্দেশ ভাঙা ও নিরাপত্তাজনিত গোপন তথ্য ফাঁসের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।