পিডিপি ভেঙে সাজাদ লোনকে বিজেপি কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী করতে চেয়েছিল, তাই জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভা ভেঙে দেওয়া হয়: সত্যপাল মালিক

নয়াদিল্লি ১১ জানুয়ারি : কাশ্মীর নিয়ে মন্তব্য করে আবারও শিরোনামে উঠে এলেন ওই রাজ্যের প্রাক্তন গভর্নর সত্যপাল মালিক । তিনি কাশ্মীরে ২০১৮ সালে হঠাৎ রাজ্যপাল শাসনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। সত্যপাল মালিক বলেছেন, “‌বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার আগেই জম্মু–কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী পদে সাজ্জাদ লোনকে বসাতে চেয়েছিল মোদি সরকার। দিল্লির কথা শুনলে সেটাই করা উচিত ছিল আমার। কিন্তু তা আমি করিনি। কারণ সেটা করলে আমি উপত্যকার বাসিন্দাদের কাছে বিশ্বাসঘাতক হয়ে যেতাম।”
তবে তিনি রাজ্য বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার জন্য পিপলস কনফারেন্স নেতা সাজাদ লোনের উপর দোষ সরিয়েছেন। সাজ্জাদ ‘ঘোড়া- কেনা বেচায় ‘ লিপ্ত হতে চেয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন। সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী এবং রাজ্যসভার সদস্য কপিল সিবালের ইউটিউব চ্যানেল “দিল সে”-এর সঙ্গে একটি সাক্ষাত্কারে মালিক জোর দিয়ে বলেন, সিদ্ধান্তটি ছিল তার নিজস্ব এবং তিনি এক্ষেত্রে বিজেপি সরকারের দ্বারা প্রভাবিত হননি ।
মালিকের মতে, বিজেপি চেয়েছিল তিনি সাজাদ লোনকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো হোক । কিন্তু লোনের প্রয়োজনীয় বিধায়ক ছিলনা।
উল্লেখ্য, সাজ্জাদ লোনকে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ করে এবং পিডিপির বিক্ষুব্ধ নিয়ে কাশ্মীরে নতুন সরকার গড়ার চেষ্টা করছিল বিজেপি। অন্যদিকে সরকার গড়ার জন্য তৎপরতা দেখা গিয়েছিল বিরোধী শিবিরেও। বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে দূরে রাখার জন্য এই প্রথম কাছে এসেছিল রাজ্যের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী পিডিপি এবং জাতীয় কনফারেন্স। ঠিক ছিল কংগ্রেসের সমর্থনে সরকার গড়বে পিডিপি, বাইরে থেকে তাকে সমর্থন দেবে জাতীয় কনফারেন্স ।
সেই উদ্দেশ্যেই তৎকালীন গভর্নর সত্যপাল মালিকের কাছে গিয়ে সরকার গড়ার দাবি জানায় পিডিপি। তার কিছুক্ষণ আগেই একই দাবি নিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেছিলেন সাজ্জাদ লোনও। কিন্তু ওইদিন সন্ধ্যাতেই বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন সত্যপাল।
বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের নেতা সাজ্জাদ লোনকে কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী করতে চেয়েছিল বিজেপি এই খবর খোদ গভর্নর সংবাদ সংস্থা জানিয়ে দেওয়ায় বিজেপির সুবিধাবাদী নীতি স্পষ্ট হয়ে পড়েছিল বলে রাজনৈতিকমহল মন্তব্য করেছিল সেইসময় ।

কপিল সিবালের ইউটিউব চ্যানেল “দিল সে” তে সেই সব কোথায় উঠে এল।