অসমে এনআরসিতে বাদ পড়া ১৯লাখের মধ্যে ৭লাখ মুসলিম

গুয়াহাটি ২০মার্চ:অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেছেন, রাজ্যের নাগরিকদের জাতীয় নিবন্ধন বা এনআরসি থেকে বাদ পড়া ১৯ লাখ ব্যক্তির মধ্যে ৭ লাখ মুসলমান। ৫ লাখ বাঙালি হিন্দু, ২ লাখ অসমিয়া হিন্দু কোচ-রাজবংশী, দাস, কলিতা, শর্মা (অসমিয়া) এবং দেড় লাখ গোর্খাকে নিবন্ধন থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ‘নিউজ লাইভ’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মুখ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এনআরসি একটি নিবন্ধন যা “অবৈধ” অভিবাসীদের সনাক্ত এবং নির্বাসিত করার জন্য। অসম সরকার ৩১ আগস্ট ২০১৯-এ নাগরিকদের একটি জাতীয় নিবন্ধন প্রকাশ করে৷সরকারি নির্দেশে বলা হয়, বাসিন্দাদের প্রমাণ করতে হবে যে তারা বা তাদের পূর্বপুরুষরা ২৪ মার্চ, ১৯৭১ সালের মধ্যরাতের আগে অসমে প্রবেশ করেছিলেন, যাতে তাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যায়৷
১৯ লাখেরও বেশি ব্যক্তি বা আবেদনকারীদের ৫.৭৭% চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েছিলেন। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, এনআরসি থেকে বাদ পড়াদের মধ্যে তিন লাখ থেকে ছয় লাখ নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের অধীনে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারে, যার নিয়ম ১১ মার্চ বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া হয়েছে।
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের লক্ষ্য হল বাংলাদেশ, আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের মুসলিম ব্যতীত ছ’টি সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উদ্বাস্তুদের জন্য ভারতীয় নাগরিকত্ব দ্রুত ট্র্যাক করা, এই শর্তে যে তারা ছয় বছর ধরে ভারতে বসবাস করেছে এবং২০১৪সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ভারতে প্রবেশ করেছে।
সিএএ এবং এনআরসি অনুযায়ী সরকার সমস্ত “অবৈধ” অভিবাসীদের বহিষ্কার করার নির্দেশ দিতে পারে এবং তারপরে হিন্দু, পার্সি, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন এবং খ্রিস্টানদের পুনরায় প্রবেশের অনুমতি দিতে পারে। মুসলমানদের একই সুযোগ দেওয়া যাবে না।
বিজেপি দেশব্যাপী এনআরসি কার্যকর করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
অসমে ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেনে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য যারা আবেদন করেছিলেন তাদের মধ্যে ১৯ লাখ লোক চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। হেমন্ত বিশ্ব শর্মার দেওয়া পরিসংখ্যান ১৫.৫ লক্ষ। বাদ পড়া বাকি ৩.৫ লাখ মানুষ কারা তা এখনও স্পষ্ট নয়।