দিল্লি হাইকোর্ট ২০২০ সালের দাঙ্গার সময় ফায়জানের মৃত্যুর তদন্ত ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দিয়েছে

নয়াদিল্লি ১৮ এপ্রিল: ভারতের দিল্লির উত্তর-পূর্ব অংশে ২০২০ সালে দাঙ্গা হয়েছিল। চার বছর আগে ২৩শে ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলা ওই দাঙ্গায় মৃত্যু হয়েছিল ৫৩ জনের।
চারদিন ধরে চলা দাঙ্গায় জান-মালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। অনেকের বাড়িঘর ও দোকানে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।
ওই দাঙ্গায় মৃত্যু হয়েছিল ফায়জানের।
দিল্লি হাইকোর্ট মৃত ফায়জানের মা কিসমাতুনের দায়ের করা একটি পিটিশনের শুনানি করেছে। তিনি তার ছেলের মৃত্যুর বিষয়ে আদালতের তত্ত্বাবধানে বিশেষ তদন্তকারী দলের (এসআইটি) তদন্ত চেয়েছেন৷
দাঙ্গার সময় কর্দমপুরী এলাকা থেকে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়।এই ভিডিওতে পুলিশের উর্দি পরা কয়েকজনকে পাঁচটি ছেলেকে লাঠি পেটা করতে দেখা গিয়েছিল।
ওই পাঁচজনকে ‘জনগণমন অধিনায়ক’ এবং ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে বলছিল তারা। ইন্টারনেটে ওই ভিডিও আজও রয়েছে।
দিল্লি দাঙ্গার এটি অন্যতম প্রধান মামলা যেখানে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে ফয়জানও ছিলেন। ২০২০ সালের ২৬শে ফেব্রুয়ারি তার মৃত্যু হয়।
ফায়জানের মা জানিয়েছেন, ফায়জানের রোজগারে সংসার চলত।
কীভাবে ফয়জানের মৃত্যু হয়েছিল এবং সেই মামলা কতদূর পৌঁছেছে, এই প্রশ্নের উত্তরে কিসমাতুন সাংবাদিকদের বলেন “চার বছর হয়ে গেল। এখন পর্যন্ত কিছুই হয়নি। ঘটনার আকস্মিকতায় আমার স্বাস্থ্যের অবনতি হয়। একদিন পুলিশ এসে বলল, বয়ান বদলে দাও।”
কিসমাতুন জানিয়েছেন, ঘটনার পর পুলিশ ফায়জানকে প্রথমে হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং পরে এক রাত তাকে জ্যোতিনগর থানাতে রাখা হয়।পরদিন তাকে ছেলেকে নিয়ে যেতে বলে পুলিশ। ফয়জনের মৃত্যু হয় ২৬শে ফেব্রুয়ারি।
সম্প্রতি, আদালত যখন কিসমাতুনের আবেদনের শুনানি করছিল, তখন তার প্রতিনিধিত্বকারী অ্যাডভোকেট বৃন্দা গ্রোভার উল্লেখযোগ্য বিলম্বের কথা উল্লেখ করে তার ছেলের মৃত্যুর পরিস্থিতির অবিলম্বে এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের জন্য চাপ দেন।