শ্রীনগর:পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি বলেছেন,কংগ্রেস ন্যাশনাল কনফারেন্সের সঙ্গে জোট করার বিষয়টি আরেকবার ভেবে দেখুক।
অন্যদিকে, ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা নাসির আলম বলেছেন যে জম্মু ও কাশ্মীরের I.N.D.I.A জোটের মধ্যে আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত হয়েছে। ন্যাশনাল কনফারেন্স জম্মু ও কাশ্মীরের ৩টি লোকসভা আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। যেখানে কংগ্রেস জম্মু, উধমপুর এবং লাদাখ আসন থেকে প্রার্থী দেবে। রাজ্যে এককভাবে নির্বাচনে লড়বে মেহবুবা মুফতির দল পিডিপি।
সূত্রের খবর, কংগ্রেস চায় ন্যাশনাল কনফারেন্স শ্রীনগর ও বারামুল্লা আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক এবং অনন্তনাগ ছেড়ে পিডিপি সভাপতি মেহবুবা মুফতির জন্য। কংগ্রেস এমনকি ন্যাশনাল কনফারেন্সকে লাদাখ লোকসভা আসন অফার করেছিল। কিন্তু ফারুক আবদুল্লাহর নেতৃত্বাধীন ২০১৯ সালের জয়ের রেকর্ডের কথা উল্লেখ করে তিনটি উপত্যকার আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়ে অনড় ছিল।
কংগ্রেসের সূত্রগুলি বলেছে যে দলটি বারামুল্লা এবং শ্রীনগরে ন্যাশনাল কনফারেন্স প্রার্থীদের সমর্থন করবে, তবে মুফতিকে যদি তিনি অনন্তনাগ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেন তাহলে কংগ্রেস সেই আসনে তাঁকেই সমর্থন করবে।এদিকে জম্মু-কাশ্মীরে ন্যাশনাল কনফারেন্স কাশ্মীরের তিনটি লোকসভা আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ন্যাশনাল কনফারেন্স এবং পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি উভয়েই দ্য পিপলস অ্যালায়েন্স ফর দ্য গুপকার ডিক্লারেশন সদস্য হলেও উপত্যকার দুটি প্রধান দল একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেমেছে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে। ফারুক আবদুল্লাহর নেতৃত্বাধীন দল বলেছে যে জম্মুতে দুটি এবং লাদাখে একটি আসন নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা নাসির আসলাম ওয়ানি বলেছেন “হ্যাঁ, আমরা উপত্যকার তিনটি আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি,”। তিনি আরও বলেছেন, “আমরা কংগ্রেসের সঙ্গে পরামর্শ করেছি যার পরে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির সঙ্গে আলোচনা হয়েছেন কিনা জানতে চাইলে ওয়ানি বলেন, ‘ওরা কেবল কংগ্রেসের সঙ্গেই কথা বলেছে’।
সূত্রের খবর, কংগ্রেস চায় ন্যাশনাল কনফারেন্স শ্রীনগর ও বারামুল্লা আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক এবং অনন্তনাগ ছেড়ে পিডিপি সভাপতি মেহবুবা মুফতির জন্য। কংগ্রেস এমনকি ন্যাশনাল কনফারেন্সকে লাদাখ লোকসভা আসন অফার করেছিল। কিন্তু ফারুক আবদুল্লাহর নেতৃত্বাধীন ২০১৯ সালের জয়ের রেকর্ডের কথা উল্লেখ করে তিনটি উপত্যকার আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়ে অনড় ছিল।
ন্যাশনাল কনফারেন্স-এর একা লড়াইয়ের সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে, পিডিপির তরফে বলা হয়েছে, ‘দল আশাবাদী যে জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণের স্বার্থে ন্যাশনাল কনফারেন্স তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে’।
সিনিয়র পিডিপি নেতা এবং প্রাক্তন মন্ত্রী নাঈম আখতার বলেছেন, “যখন ফারুক সাহেবকে ২০১৯ এর পরে (জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পরে) জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল তখন তাকে কৌশল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন যে তারা জেল থেকে মুক্তি পেলেই মেহবুবা জির সঙ্গে আলোচনার পরেই পরবর্তী কৌশলটি তৈরি করবেন। কিন্তু এবার তারা আমাদের সঙ্গে আসন নিয়ে কোন কথা বলেননি।”
তিনি আরও বলেছেন, পিডিপি “জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণের স্বার্থে দলের স্বার্থ বিসর্জন দিতে” প্রস্তুত। তিনি আরও বলেন, আমরা ঐক্যের পক্ষে। আমরা এখনও আশাবাদী যে ন্যাশনাল কনফারেন্স জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেবে। দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে গিয়ে কাশ্মীরের জণসাধারণের স্বার্থে এবার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। আমরা জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণের জন্য আমাদের লড়াই চালিয়ে যাব।”
