‘রাজ্যপালের বিরুদ্ধে সমালোচনা নয়’? হাইকোর্টে শুনানি মঙ্গলবার

বর্তমান পরিস্থিতিতে যাবতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাজ্যপাল বোস। নবান্ন বনাম রাজভবনের ঠান্ডা লড়াই অব্যাহত রয়েছে। গত ২ মে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে কুপ্রস্তাব এবং যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন রাজভবনেরই এক অস্থায়ী মহিলা কর্মী। হেয়ারস্ট্রিট থানায় অভিযোগও দায়ের করেন ওই মহিলা। এরপরই রাজ্যপালের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠেছে।তবে অভিযোগ প্রামানিত না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যপালের বিরুদ্ধে কোনও রকমমন্তব্য না করার আর্জি জানিয়ে এবার মামলা দায়ের হল কলকাতা হাইকোর্টে। বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির এজলাসে এই মামলাটি দায়ের করেন আইনজীবী তাীর্থঙ্কর দে। প্রধান বিচারপতি মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছেন। আগামী মঙ্গলবার মামলাটির শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে ।মামলা গ্রহণের আবেদনে ওই আইনজীবী আদালত কে জানিয়েছেন, “রাজ্যপাল সাংবিধানিক প্রধান। তিনি নিজেও বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, ‘চক্রান্ত করে তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে। ঘটনার নেপথ্যে রাজনৈতিক অভিসন্ধি রয়েছে।’ তাই দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যপালের বিরুদ্ধ মন্তব্য বন্ধ করা জরুরি।”সাংবিধানিক সুরক্ষা পেয়ে থাকেন রাজ্যপাল। তাঁর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠতেই শোরগোল তৈরি হয় সব মহলে। ‘রাজ্যপাল বলে কি তিনি আইনের উর্ধ্বে?’ এই প্রশ্ন সরব হয় রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল। নির্যাতিতার অত্যাচারের ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।লালবাজারের তরফে রাজভবননের পুলিশের কাছে সেদিন রাজভবনের সিসিটিভির ফুটেজ চাওয়া হয়। এরপরই পুলিশ সহযোগিতা না করার জন্য রাজভবনের কর্মীদের নির্দেশ দেন রাজ্যপাল। সোশ্যাল মাধ্যমেও শেয়ার করা হয় রাজ্যপালের ওই নির্দেশ। এবার রাজ্যপালের বিরুদ্ধে মন্তব্য না করার আর্জি জানিয়ে দায়ের হল মামলা।অন্যদিকে এই সংক্রান্ত অন্য একটি মামলার জরুরি শুনানির আবেদন খারিজ করে এদিন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবগ্নানাম এবং বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছেন,-‘ রাজ্যপালের কী করা উচিত এ ব্যাপারে আদালত রাজ্যপালকে পরামর্শ দিতে পারে না’।আগামী মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার মামলাটির শুনানি রয়েছে বলে জানা যায়।