নয়াদিল্লি ও ভুবনেশ্বর ২০মে:প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, তিনি সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে কখনও একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি, এবং বিজেপি তাদের বিরুদ্ধে “শুধু আজ নয় কখনও কোন কাজ করেনি”। তবে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি কাউকে “বিশেষ নাগরিক” হিসাবে গ্রহণ করতে প্রস্তুত নন।
সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মোদি এ কথা বলেছেন।মোদি আরও বলেছেন, কংগ্রেস ক্রমাগত সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষ চেতনা লঙ্ঘন করেছে, এবং তার প্রচারের বক্তৃতাগুলি ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের খুশি করার জন্য প্রচার করছে।
সাক্ষাৎকারে তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে তার বক্তব্যের কারণে সংখ্যালঘুদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। তখন তিনি বলেন, “আমি সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে একটি শব্দও বলিনি। আমি শুধু কংগ্রেসের ভোট ব্যাঙ্কের রাজনীতির বিরুদ্ধে কথা বলছি। কংগ্রেস সংবিধানের বিরুদ্ধে কাজ করছে, আমি এটাই বলেছি।”
মোদি বলেন, বি আর আম্বেদকর এবং জওহরলাল নেহেরু সহ ভারতের সংবিধান প্রণেতারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে ধর্মের ভিত্তিতে কোনও সংরক্ষণ থাকবে না। এখন আপনি তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। তাদের কথা ফাঁস করার দায়িত্ব আমার। তখন গণপরিষদে আমার দলের কোন সদস্য ছিল না। এটি ছিল সারা দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সমাবেশ।
তাকে আবার জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে তিনি কি তার নির্বাচনী বক্তৃতায় সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করতে চাননি? তখন তিনি বলেন, “বিজেপি কখনও সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ছিল না। শুধু আজ নয়, কখনোই নয়।”
এরপর তিনি যোগ করেন যে কংগ্রেস তুষ্টির পথ অনুসরণ করে। আমি সন্তুষ্টির পথ অনুসরণ করি। (ওহ লগ তুষ্টিকরণ কে রাস্তে পে চলতে হ্যায়, ম্যায় সন্তুষ্টিকরণ কে রাস্তে পে চলতা হুন)। তাদের রাজনীতি তো তুষ্টির। আমার রাজনীতি হল ‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ’। আমরা ‘সর্বধর্ম সম্ভবে’ বিশ্বাস করি। আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলতে চাই। আমরা কাউকে বিশেষ নাগরিক হিসেবে মেনে নিতে প্রস্তুত নই, কিন্তু সবাইকে সমান বিবেচনা করি,”- বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তাকে আরও জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে তিনি সত্যিই বিশ্বাস করেন যে কংগ্রেস আসলেই হিন্দুদের সম্পদ মুসলমানদের দিয়ে দেবে? নাকি এটি কেবল প্রচারের অংশ ছিল।
মোদি বলেন,“আমার এভাবে ভাবার প্রশ্নই আসে না। কোন যুক্তি ছাড়া প্রচার করা পাপ। এমন পাপ আমি কখনো করিনি এবং করতে চাইও না। তারা (বিরোধীরা) এই ধরনের অযৌক্তিক প্রচারণা চালিয়েছে।”
এদিকে গত কয়েকদিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নানা বক্তব্যকে ঘিরে সমালোচনায় সরব হয়েছে বিরোধীরা। মোদির বিরুদ্ধে ধর্মীয় মেরুকরণ, ঘৃণা-সূচক বক্তব্য-সহ একাধিক অভিযোগ তুলেছে তারা। অভিযোগ উঠেছে নির্বাচনের আবহে আদর্শ আচরণবিধি ভঙ্গেরও।
কংগ্রেসের অভিযোগ,আর আকারে-ইঙ্গিতে নয়, তার বিরুদ্ধে তোলা ধর্মীয় মেরুকরণ এবং নির্বাচনের আদর্শ আচরণবিধি মেনে না চলার অভিযোগের মাঝেই লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে এবার সরাসরি মুসলিমদের নিশানা করেছেন,করে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে নরেন্দ্র মোদির সমালোচনা করে বলেছেন, কংগ্রেস সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথে রয়েছে এবং সেই কারণে ‘মঙ্গলসূত্র’ আর ‘মুসলমানদের’ প্রসঙ্গ বারে বারে নিয়ে আসছেন প্রধানমন্ত্রী।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদেরও অনেকে মনে করেন বিজেপি সাম্প্রদায়িক ইস্যুকেই সামনে এনে ভোটে জিততে মরিয়া।
