নয়াদিল্লি ১০জুন:কংগ্রেস সোমবার বলেছে যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে শীঘ্রই দেশকে জানাতে হবে কখন আদমশুমারি পরিচালিত হবে ।ওবিসি হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ সম্প্রদায়ের জনসংখ্যার তথ্যও সরবরাহ করবে জনগণনা।যা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত।আদমশুমারি না হওয়াতে তা জানা যাচ্ছেনা।
কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ বলেছেন যে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় একটি ব্যাপক জনগণনা। প্রতি ১০ বছরে কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা পরিচালিত হয়।জনগণনা না হওয়াতে ১৪ কোটি ভারতীয় জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা আইন, ২০১৩-এর অধীনে সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীকে শীঘ্রই দেশকে জানাতে হবে কখন আপডেট করা আদমশুমারি পরিচালিত হবে।”
১৯৫১ সাল থেকে এক এক দশকের আদমশুমারি তফসিলি জাতি এবং তফসিলি উপজাতির জনসংখ্যার তথ্য প্রদান করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন,প্রতি ১০ বছর অন্তর জনগণনা হওয়াই দস্তুর ভারতে। বিগত ১৫০ বছর ধরে অন্তত তেমনই চলে আসছিল। নিয়মিত এ ভাবে জনগণনা চালানো হাতেগোনা কিছু দেশের মধ্যে তাই আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ জায়গা ছিল। কিন্তু কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের আমলে এই রীতিতে পরিবর্তন চোখে পড়ছে। কারণ ২০১১ সালের পর নিয়ম অনুযায়ী ২০২১ সালে জনগণনা হওয়ার কথা থাকলেও, তা হয়ে ওঠেনি এখনও পর্যন্ত। জনগণনার কাজে কবে কেন্দ্র কবে হাত দিতে পারে তা জানা যাচ্ছে না।
উল্লেখ্য,২০২১ সালে জনগণনা করাতে ২০১৯ থেকেই তৎপরতা শুরু হয়েছিল। তার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল ৮ হাজার ৭৫৪.২৩ কোটি টাকাও। কথা ছিল, ৩৩ লক্ষ জনগণনাকারীকে নামিয়ে আদমসুমারির কাজ সম্পন্ন হবে। ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর এবং ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মোট দু’দফায় এই জনগণনার কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল, যাতে ২০২১-এর মাঝামাঝিই প্রাথমিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করে দেওয়া যায়। কিন্তু অতিমারিকে কারণ হিসেবে তুলে ধরে জনগণনার কাজ স্থগিত করে দেওয়া হয়। ২০২২-এ ফের জনগণনার কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল। প্রথম বারের জন্য ডিজিটাল মাধ্যমে জনগণনা হবে বলে ঢাকঢোলও বেজেছিল বিস্তর। কিন্তু তা-ও হয়ে ওঠেনি।
বার বার কাজ আটকে যাওয়ার পর, ২০২৩-এ জনগণনা শুরু হবে বলে শোনা যাচ্ছিল লুটিয়েন্স দিল্লিতে। কিন্তু এখন জানা যাচ্ছে, এ বছর জনগণনার কোনও সম্ভাবনা নেই। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচন মিটে গেছে।এবার এই কাজে হাত দেবে কি কেন্দ্র? প্রশ্ন রমেশের। জনগণনা না হওয়াতে ১০ বছর অন্তর জনগণনার রীতিই শুধু ভঙ্গ হচ্ছে না, এতে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মাথাপিছু নাগরিকদের আয়, জনসংখ্যা এবং সম্পদের অনুপাত, জন্ম-মৃত্যুর হার, উদ্বাস্তু সমস্যা এবং সাক্ষরতার হিসেবেও বিরাট ব্যবধান তৈরি হচ্ছে ।
