উত্তরাখণ্ড ‘ পবিত্র ভূমি ‘ , এখান থেকে মুসলমানদের তাড়িয়ে দেওয়া হবে: সেনাদল প্রধান রাকেশ তমার

দেরাদুন ৭ সেপ্টেম্বর :হিন্দুত্বের প্রবক্তারা উত্তরাখণ্ডকে ‘পবিত্র ভূমি’ বলে মনে করেন । তাই সেখান থেকে সমস্ত মুসলিমকে তারা তাড়িয়ে দিতে চান । চরমপন্থী হিন্দু জাতীয়তাবাদী কর্মী রাকেশ তমার বলেন, ” উত্তরখণ্ড হিন্দুদের পবিত্র ভূমি। আমরা এটাকে কোন অবস্থাতেই ইসলামিক রাজ্যে পরিণত হতে দেব না, যদি এর জন্য আমাদের প্রাণও দিতে হয়।”
রাকেশ তমার রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) এর সদস্য, যিনি লাখ লাখ সদস্যের জন্য আধাসামরিক মহড়া এবং প্রার্থনা সভা পরিচালনা করে থাকেন। কয়েকশ সদস্য বিশিষ্ট বিরোধী ব্যক্তিগত সেনাদলের প্রধান তমার বিশ্বাস করেন যে, তার মুসলিম প্রতিবেশীরা হিন্দু নারী, জমি এবং ব্যবসা দখল করার ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। তাই তাদের এই রাজ্য থেকে তাড়াতে হবে ।কিন্তু এর কোনোটিরই যথার্থ প্রমাণ দিতে পারেননি তিনি।
এর অংশ হিসেবে ২০২৩ সালের মে মাসে উত্তরখণ্ড রাজ্যের পুরালায় মুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যে সহিংস হামলা ঘটেছিল, সেই ভয়ঙ্কর স্মৃতি মনে করে এখনও কেঁপে ওঠেন মুহাম্মদ সেলিম।
সেলিমের কাপড়ের দোকান লুট করা হয়েছিল। এখন তিনি পরিবার নিয়ে পুরালা থেকে প্রায় ১শ’ কিলোমিটার দূরে হরিদ্বার শহরে বাস করছেন, অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই করছেন। তিন মেয়ের বাবা সেলিম বলেন, ‘আমি যদি সেদিন পালিয়ে না যেতাম, তাহলে ওরা আমাকে পরিবারসহ মেরে ফেলত।’
২০১১ সালের শেষ আদমশুমারি অনুসারে, উত্তরখণ্ডের ১ কোটি লোকের মধ্যে মাত্র ১৩ শতাংশ মুসলিম। গত বছর রাজ্যটির মুসলিম বিদ্বেষের বেশিরভাগই ‘লাভ-জিহাদ’ ষড়যন্ত্র দিয়ে উস্কে দেওয়া হয়েছিল এই দাবিতে যে, ‘শিকারী মুসলিম পুরুষরা হিন্দু মহিলাদের ধর্মান্তরিত করার জন্য প্রলুব্ধ করছিল।’
পর্যবেক্ষক মহল মনে করে , দেশের সম্প্রীতিকে বিষাক্ত করে তুলতে অপ্রমানিত কিন্তু কার্যকর এই অপপ্রচার কৌশলে ব্যাপকভাবে অনলাইনে ছড়িয়ে দিচ্ছেন ক্ষমতাসীন বিজেপ উত্তরা খানকে দলের সমর্থক তমারের মতো কর্মীরা।
রাকেশ তমার বলেন, ” আমরা একটি উদ্যোগ শুরু করেছি যেখানে হিন্দু দোকানদাররা তাদের দোকানের বাইরে নামফলক লাগাচ্ছে যাতে হিন্দুরা তাদের কাছ থেকে পণ্য ক্রয় করে। এই অর্থনৈতিক বর্জন মুসলমানদের দ্বারা পরিচালিত বাণিজ্য জিহাদকে রোধ করবে।’
গত বছর পুরালায় মুসলমানদের উপর হামলার আগে একটি প্রচারণার মাধ্যমে মুসলিমদেরকে নিজের বাড়িঘর এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছেড়ে চলে যেতে চাপ দেওয়া হয়েছিল, যেখানে প্রায় ১০হাজার হিন্দুর শহরের মুসলমানদের সংখ্যা মাত্র ৫শ’ ছিল।
সেলিমের বাবা ৫০ বছর আগে পুরালায় স্থায়ী হয়েছিলেন, এবং তার হিন্দু প্রতিবেশীদের সঙ্গে সখ্যতা গড়েছিলেন। তিনি বিজেপির সংখ্যালঘু অংশের স্থানীয় নেতা এবং দলটির অ-হিন্দু সমর্থকও ছিলেন। কিন্তু মুসলিমদের বিরুদ্ধে অনলাইনে লাগাতার ঘৃণামূলক প্রচারণা সেই সখ্যতায় বিভেদ তৈরি করেছে।
গত বছর পুরালায় সেই হামলার রাতে অন্য ২শ’ মুসলমানের মতো সেলিম ও তার পরিবারও পালিয়ে যান। প্রায় ৫০ লাখ টাকার সম্পদ হারানো সেলিম বলেন, ‘ আমাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। লোকজন বলল, তুমি তাড়াতাড়ি শহর ছেড়ে চলে যাও, নইলে লোকে তোমাকে মেরে ফেলবে।’