শান্তিকুঞ্জ থেকে ২০০ মিটার দুরে দাঁড়িয়ে ডিসেম্বর জুড়ে ‘বেইমানমুক্ত; ‘বিশ্বাসঘাতকমুক্ত’ মেদিনীপুর কর্মসূচী ঘোষনার মধ্য দিয়ে আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনের দামামা বাজিয়ে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।সাথে দরজা খোলার কথা বলে দিলেন প্রচ্ছন্ন হুশিয়ারী।দলের সেকেন্ড ইন কমান্ডের সেই ঘোষনার জেরে কাঁথির পিকে কলেজের মাঠে হাজার হাজার তৃনমূল কর্মী সমর্থকদের গগনভেদী উচ্ছ্বাসে তখন যেন টালমাটাল দশা শান্তিকুঞ্জের !
বেলা ৩টে ১০ নাগাদ কাঁথির ওই মঞ্চে পৌঁছন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমে শহিদ ক্ষদিরাম বসুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন তিনি।পরে শহীদ মাতঙ্গিনি হাজরা,সতীশ সামন্ত প্রমুখ মেদিনীপুরের বরেন্য স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন অভিষেক।বিকেল ৩টে ২০ নাগাদ বক্তৃতা শুরু করেন অভিষেক।
‘ডিসেম্বর প্ল্যান’ নিয়ে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি।প্রথমে শুরু করেছিলেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।আর আজ তার বাড়ির দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে সেই ডিসেম্বরকে তীর বানিয়ে পঞ্চায়েত নির্বাচনকে লক্ষ্য ভেদ করার দিশা দিলেন অভিষেক।
তৃণমূলের সেনাপতি বলেন এই মাসে ক্ষুদিরামের জন্ম দিন,তাম্রলিপ্ত সরকার তৈরি হয়েছিল।আর
এই ডিসেম্বরেই মেদিনীপুরের এক সন্তান সম্মান ভূলুন্ঠিত হয়েছে । ২০২০ সালের ১৯ ডিসেম্বর অমিত শাহের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিন সেই ঘটনাকেই বেইমানি, বিশ্বাসঘাতকতা বলে উল্লেখ করেন অভিষেক। -সিবিআইয়ের ভয়ে, নিজের ঘাড়, পিঠ বাঁচাতে দু’বছর আগে মেদিনীপুরের সম্মান বিক্রি করে বিজেপিতে যোগ দিয়েছে বিশ্বাসঘাতক।
মেদিনীপুরের মানুষ তাদের ক্ষমা করবে না। তাঁকে ৫০০ বছর বিশ্বাসঘাতক, মীরজাফর বলে কটাক্ষ করবে সাধারণ মানুষ।শুভেন্দুকে নিশানা করে অভিষেকের আক্রমণ,যার পরিবার ব্রিটিশ তাড়ায় সে অমিত শাহের পায়ে হাত দিয়ে বিজেপিতে যোগ দেবে?এরপরই স্থানীয় নেতৃত্বকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশ ডিসেম্বর জুড়ে ‘বেইমানমুক্ত; ‘বিশ্বাসঘাতকমুক্ত’ মেদিনীপুর কর্মসূচি নিন।
অভিষেকের স্পষ্ট ঘোষনা পঞ্চায়েত নির্বাচনে অবাধ ভোট হবে। যারা ভোটে লড়তে চায় না তারা নানা টালবাহানা করছে। ২০১১ সালে যা আসন পেয়েছিল তার থেকে ২০১৬ এবং ২০২১ সালে বেশি আসন পেয়েছে তৃণমূল। অধিকারী পরিবার ছিল না বলে আমরা বেশি আসন পেয়েছি।তলেতলে শুভেন্দু অধিকারীর সাথে যোগাযোগ রাখা দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে হুশিয়ারি দিয়ে বলেন সবার তালিকা আমার কাছে আছে ।নিজদের পদ রাখতে কারা শান্তিকুঞ্জের শান্তি বজায় রাখার ব্যাবস্থা করেন সেই তালিকা তৈরী।বলেন যাঁরা দাদা দিদির পদলেহন করে ভাবছেন মানুষের কথা না শুনে পঞ্চায়েত চালাবেন তাঁদের আমি হুঁশিয়ারি দিয়ে যাচ্ছি আর এক বার, আপনাদের টিকিট দেওয়া তো দূরের কথা আপনাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে প্রশাসন জেলে ঢোকাবে।
কর্মীদের ভয় না পাওয়ার অভয় দিয়ে বলেছেন আমি আসব। আপনারা ভয় পাবেন না। এই তো বোমা দিয়ে আমাকে চমকানোর চেষ্টা হয়েছিল। আমি এসেছি। কলকাতা থেকে ২ ঘণ্টার রাস্তা। বিজেপির বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একমাত্র লড়ছেন। কিন্তু আমরা থেমে খথাকার পাত্র নই। আমরা আজও মানুষের জন্য লড়াই করতে বদ্ধপরিকর। ডিসেম্বর মাসে বেইমান এবং বিশ্বাসঘাতক পূর্ব মেদিনীপুর গড়ার ডাক দিয়েছে। আগামিদিনে তা সর্বস্তরে করতে হবে। তৃণমূলের বুথ এবং অঞ্চল সভাপতিরা গ্রামে যান। কে কী দল করে তা দেখার দরকার নেই। ভোটে জিতলে আমাদের কোনও জাতিধর্ম নেই। সব পরিষেবা মানুষ পাচ্ছেন কি না তা দেখতে হবে। বার্তা অভিষেকের।
আর শেষ করেছেন ডিসেম্বর প্ল্যান এর একটা ছোট বাক্স খোলার হুশিয়ারি দিয়ে।যা শুধু শুভেন্দু নয়,কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলবে দিলীপ ঘোষ-সুকান্ত মজুমদারদেরও।কারন তৃনমূল সেনাপতির হিম শীতল হুশিয়ারী ! দলীয় কর্মীদের ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা দিয়ে অভিষেক বলেছেন আপনাদের ভাবাবেগকে সম্মান দিয়েছি। দুঃসময়ে কর্মীরা যে ভাবে লড়াই করেছে তাদের ওপর মর্যাদা রেখে আমি দরজা খুলছি না। দরজা খুললে বিজেপি দলটাই উঠে যাবে। বলুন দরজা খুলব? আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, দরজাটা খুলে দিই। আগামী সপ্তাহে দরজাটা খুলি তা হলে ৫ সেকেন্ডের জন্য। আমি একটু ছোট্ট করে দরজাটা খুলতে চাই। ডিসেম্বর মাসে ছোট্ট করে দরজাটা খোলা যাক। যারা বেছে বেছে দলের জন্য কাজ করবে। কারও মাথার ওপর বসবে না। সেই দায়িত্বও আমার। আমি কথা দিয়ে যাচ্ছি।
