ক্ষমতায় গেলে ১০০ দিনের মধ্যে প্রতিশ্রুতি পূরণের অঙ্গীকার মেঘালয়ের মাটিতে দাঁড়িয়ে সরকার পরির্তনের ডাক মমতার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোট নির্ঘন্ট ঘোষণার দিনেই মেঘের রাজ্যের মাটিতে দাঁড়িয়ে মেঘালয়ের বিজেপি-এনপিপি সরকার বদলের ডাক দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাহাড়ি রাজ্যে একমাত্র তৃণমূল কংগ্রেসই মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে দাবি করে তিনি বলেন, ‘বিজেপির ডাবল ইঞ্জিনের সরকার আসলে ডাবল মুখোশের সরকার। ভোটের সময়ে এক রূপ। ভোটের পরে অন্য রূপ। নির্বাচন এলেই নানা রকমের প্রতিশ্রুতি দেয়। আর ভোট হয়ে গেলে সব ভোঁ-ভা। তাই বিজেপির কথায় বিশ্বাস করবেন না। তৃণমূল কংগ্রেসই একমাত্র বিকল্প। একমাত্র তৃণমূল কংগ্রেসই পারে দুর্নীতিমুক্ত মেঘালয় গড়তে। তাই বর্তমান সরকারকে বিদায় করে তৃণমূল কংগ্রেসের সরকারকে নিয়ে আসুন। মেঘালয়ের বর্তমান প্রক্সি সরকারকে বদলে ফেলুন।’
আলিপুরদুয়ার থেকে আকাশপথে বুধবার সকালে তুরার মেন্দিপাথারে পৌঁছন তৃণমূল সুপ্রিমো। সঙ্গে ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জনসভায় ভাষণের শুরুতেই তিনি বলেন, ‘আমি মেঘালয়কে কুর্ণিশ জানাই। আমি অনেক ভাষাই শিখেছি। এর পরে যখন আসব তখন আপনাদের ভাষাতেই কথা বলব। ইউটিউব দেখে আপনাদের ভাষা শিখে নেব।’ রাজ্যের বিজেপি জোট সরকারকে নিশানা করে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, ‘ভোটের আগে ডাবল ইঞ্জিনের সরকারের কথা বলেছিল। কিন্তু গত পাঁচ বছরে এখানকার সরকার আপনাদের জন্য কী করেছে? কেন রাজ্যে বিজেপির সরকার থাকার পরেও বেকারের সংখ্যা এত বেশি? এখনও কেন অধিকাংশ জায়গায় বিদ্যু‍ৎ পৌঁছল না? বিজেপির ডাবল ইঞ্জিন সরকার মানে ডাবল মুখোশ। এখানে প্রক্সি সরকার চলছে। গুয়াহাটি থেকে ডিফ্যাক্টো চিফ মিনিস্টার রয়েছে। আসল কলকাঠি নাড়ছে দিল্লি। বিজেপি মেঘালয়ে অপশাসন চালাচ্ছে। পাঁচ বছরে এখানকার জন্য কী উন্নয়ন করেছে ক্ষমতা থাকলে তার রিপোর্ট কার্ড প্রকাশ করুক।’
বাংলায় কীভাবে তাঁর সরকার মানুষের উন্নয়নে, মানুষের স্বার্থে কাজ করে সেই কথাও পরিসংখ্যান দিয়ে তুলে ধরেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তাঁর কথায়, ‘গোটা দেশে যেখানে ৪০ শতাংশ বেকারত্ব বেড়েছে, সেখানে পশ্চিমবঙ্গে ৪০ শতাংশ কর্মসংস্থান হয়েছে। প্রত্যেক কৃষককে প্রতি বছর ১০ হাজার টাকা করে দিচ্ছে রাজ্য সরকার। মহিলারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন। বিনামূল্যে চিকি‍ৎসা পরিষেবা পান সাধারণ মানুষ। স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পড়ুয়াদের উচ্চ শিক্ষার জন্য ঋণ দেওয়া হচ্ছে। কন্যাশ্রী, স্বাস্থ্যসাথী, সবুজসাথীর মতো প্রকল্প রয়েছে।’ মেঘালয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় এলে ১০০ দিনের মধ্যেই বাংলার বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প পাহাড়ি রাজ্যে চালু করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে মেঘালয়ে তৃণমূল সরকার পরিচালনার ভার ভূমিপুত্রের হাতেই ন্যস্ত করা হবে বলেও কথা দিয়ে তিনি বলেন, ‘মেঘালয়ের জন্য মেঘালয়ের মানুষের দ্বারা নির্বাচিত সরকার হবে। মেঘালয়ের ভবিষ্যতের জন্য কারও কাছে মাথা নত করতে হবে না আপনাদের।’
তাঁর রাজনৈতিক উত্থানের পিছনে যে লড়াই রয়েছে তার উল্লেখ করে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ লড়াই করতে কখনও ভয় পাইনি। আমি বাম শাসন থেকে আমার লড়াই শুরু করেছি৷ কংগ্রেস সাহায্য করেনি। আমার উপরে নানারকম অত্যাচার হয়েছে। আমি একাধিকবার শারীরিক ভাবে আক্রান্ত হয়েছি। যদিও আমি মাথা নীচু করিনি৷ অত্যাচার সত্বেও লড়াই থেকে পিছু হঠিনি। মনে রাখবেন রাজনীতি আমার পেশা নয়, রাজনীতি হল আমার প্যাশন। মানুষের পাশে থাকার জন্যই রাজনীতিতে এসেছি।’ দুর্নীতির সঙ্গে তিনি জীবনে কখনও আপস করেননি জানিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, ‘অনেকেই অনেক কথা বলে। অপপ্রচার চালায়। কিন্তু মনে রাখবেন, আমি দুর্নীতির সঙ্গে কোনওদিন আপস করিনি। বরং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সারা জীবন লড়াই করেছি।’