নয়াদিল্লি ৭মে:ক্ষমতাসীন বিজেপি আগামী ১০ মে’র পরে দেশে মুসলিমদের ‘হৃদয়ে জায়গা’ করে নিতে এবং তাদের ‘ক্ষমতায়নের’ জন্য দেশব্যাপী প্রচার শুরু করার পরিকল্পনা-কৌশল গ্রহণ করেছে। ৩লক্ষেরও বেশি মুসলিম ‘মোদি মিত্র’ (মোদির বন্ধু) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মুসলিম কল্যাণমূলক কর্মসূচি সম্পর্কে মুসলমানদের মনে জায়গা করে নিতে ও তাদের ক্ষমতায়ন এবং শিক্ষিত করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী অরাজনৈতিক প্রচারাভিযান চালিয়ে যাবেন।বিজেপির সদস্য না হয়ে এই প্রচারে মুসলিম ‘মোদি মিত্র’ (যারা স্বেচ্ছায় সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়নের জন্য) ৬৫টি মুসলিম অধ্যুষিত সংসদীয় নির্বাচনী এলাকা পরিদর্শন করবেন। বিজেপি সংখ্যালঘু মোর্চার সর্বভারতীয় সভাপতি জামাল সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেন, মুসলিম ক্ষমতায়নের জন্য দেশব্যাপী প্রচার সম্ভবত ১০ মে থেকে শুরু হবে। ৩.২৫ লক্ষ ‘মোদি মিত্র’ এই প্রচারে অংশ নেবেন। মুসলিম অধ্যুষিত সব লোকসভার ৬৫টি আসন জুড়ে মোদি সরকারের কল্যাণমূলক উদ্যোগ চলবে। তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনের তারিখ ঘোষিত না হওয়া পর্যন্ত, এই প্রচারাভিযান ৬৫টি চিহ্নিত মুসলিম-অধ্যুষিত সংসদীয় নির্বাচনী এলাকার সমস্ত বিধানসভা এলাকাকে কভার করবে। তিনি বলেন, প্রতিটি বিধানসভা সেক্টরে ২০ জন অরাজনৈতিক মুসলিম ব্যক্তিত্ব, প্রতিটি বিভাগে ৩০ জন মুসলমানকে “মোদি মিত্র” হিসাবে নিয়োগ করা হবে।
এইভাবে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে মুসলিম সম্প্রদায়ের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়ার মহড়া শুরু করতে চলেছে বিজেপি।বিজেপি সংখ্যালঘু মোর্চার দিল্লি অঞ্চলের ইনচার্জ আতিফ রশিদ বলেছেন যে, ‘আমরা সারা দেশে মুসলিমদের সঙ্গে জনসংযোগ প্রচার শুরু করছি। যাতে মুসলমানরাও দলের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। ‘গাঁও-গাঁও ঘর-ঘর’ চলো ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে, যার মাধ্যমে মোদি সরকারের নীতি, পরিকল্পনা ও কাজ সম্পর্কে মুসলমানদের জানানো হচ্ছে।এরসঙ্গে, মুসলমানদের ‘মোদী মিত্র’ বানানোর একটি কৌশলও তৈরি করা হয়েছে, যাতে সমস্ত স্তরের মুসলমানদের মন জয়ের চেষ্টা করা হবে।মুসলমানদের মধ্যে যারা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, সমাজকর্মী, সাংবাদিক, অধ্যাপক তাঁদের দিকে বাড়তি নজর দেওয়া হবে। এই ব্যক্তিরা রাজনৈতিক কর্মী হলে বহু মানুষকে প্রভাবিত করতে পারবেন। এদের কেই বেছে বেছে মোদি মিত্র করা হবে। ‘মোদী মিত্র’রা মোদি সরকারের বার্তা এবং নীতিগুলি মুসলমানদের মধ্যে আরও ভালভাবে পৌঁছে দেবে।
উল্লেখ্য,দেশে মুসলমানদের জনসংখ্যা ১৪-১৬ শতাংশ, যা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর থেকে বিজেপি মুসলমানদের মধ্যে নিজের জায়গা করে নেওয়ার চেষ্টা করছে, কিন্তু মুসলমানদের হৃদয় এখনও গলেনি। বিজেপি এটা খুব ভালো করেই জানে যে এই সম্প্রদায়কে যদি বিজেপির সঙ্গে যুক্ত করে তাহলে তার সামনের পথ সহজ হয়ে যাবে। তাই বিজেপি মুসলমানদের হৃদয়ে জায়গা করে নিতে নানাভাবে কাজ করছে।
