জয়পুর, ৮ মে: রাজস্থানের হনুমানগড়ে ভেঙে পড়ল বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান মিগ-২১। সোমবার সকালে অনুশীলন চালানোর সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। রাজস্থানের হনুমানগড়ে একটি বাড়ির উপর ভেঙে পড়ে বায়ুসেনার এই যুদ্ধবিমানটি। এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনজন গ্রামবাসী। মৃত তিনজনই মহিলা। আহত আরও একজন। দুর্ঘটনায় আঘাত পেয়েছেন যুদ্ধ বিমানের পাইলটও। তাঁকে উদ্ধার করা হয়েছে।
মাঝ আকাশে যুদ্ধ বিমানটি থাকার সময়ই পাইলট এটিসিকে জানান যে, ইঞ্জিন সঠিকভাবে কাজ করছে না। এরপর যান্ত্রিক ত্রুটি আরও বেড়ে যায়। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পাইলটের দক্ষতায় বিমানটি গ্রামের ভিতরে পড়ার বদলে অনেকটাই দূরে গিয়ে পড়ে। না হলে আরও মানুষের মৃত্যু হতে পারত।
জানা গিয়েছে, রাজস্থানের হনুমানগড় জেলার পিলিবাঙ্গা গ্রামে বিধ্বস্ত হওয়ার আগে বিমানটি নিয়মিত অনুশীলনের জন্য সুরতগড় বিমানঘাঁটি থেকে উড়েছিল। দুর্ঘটনার আগে পাইলট একটি প্যারাসুটের মাধ্যমে সময়মতো বিমান থেকে লাফ দিয়েছিলেন। এ কারণে তিনি কোনও রকমে প্রাণে বেঁচেছেন।
দুর্ঘটনায় রত্তি রাম নামে এক ব্যক্তির বাড়ির ছাদে বিমানটি ভেঙে পড়ে। রত্তির স্ত্রী সহ লীলা দেবী ও বানতো কউর নামে দুজন মহিলা মারা গিয়েছেন। পুলিশ ও দমকল পৌঁছনোর আগে গ্রামবাসীরা পাশের এলাকা থেকে জল এনে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে।
ট্যুইটারে বিমান বাহিনী জানায়, “আজ সকালে আইএএফের একটি মিগ-২১ যুদ্ধবিমান নিয়মিত প্রশিক্ষণের সময় সুরতগড়ের কাছে বিধ্বস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনায় পাইলট সামান্য আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যুদ্ধবিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বিকানেরের আইজি ওম প্রকাশ জানিয়েছে, ‘মানুষের হতাহতের ঘটনা এড়াতে সকল ধরণের চেষ্টা করেছিলেন পাইলট, গ্রামের উপকণ্ঠে বিমানটি ক্র্যাশ-ল্যান্ড করেন।
উল্লেখ্য, এই বছরের শুরুতেই জানুয়ারি মাসে রাজস্থানেই পর পর দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয় দুটি যুদ্ধবিমান। প্রশিক্ষণের সময় রাজস্থানের ভরতপুরে এবং মধ্য প্রদেশের মোরেনা জেলায় সুখোই এসইউ-৩০ ও মাইরেজ ২০০০ ভেঙে পড়ে। ওই দুর্ঘটনায় এক পাইলটের মৃত্যুও হয়েছিল।
