৬৯ কোটি মানুষের তথ্য হাতিয়ে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে ধৃত বিনয় ভরদ্বাজ কলকাতা পুলিশের সাইবার সেলের হেফাজতে

কলকাতা ও হায়দরাবাদ ৮ মে:অদ্ভুত তার ক্ষমতা।একটা ফোন ধরলেই নিমেষে বেহাত হয়ে যেত যাবতীয় গোপন ও ব্যক্তিগত তথ্য । পড়ুয়া থেকে শুরু করে সরকারি চাকুরিজীবী, সেনাবাহিনীর সদস্য, প্রবীণ নাগরিক- সাইবার প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পাননি কেউই। অনলাইনে ঠকিয়ে কয়েক কোটি মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এমনই এক যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ।বর্তমানে সে কলকাতা পুলিশের সাইবার সেলের হেফাজতে রয়েছে। জানা গিয়েছে, সারা দেশ জুড়েই এই প্রতারণার জাল ছড়িয়েছিল। দেশের ২৪টি রাজ্য, ৮টি মেট্রোপলিটন শহর মিলিয়ে মোট ৬৯ কোটি মানুষের ব্যক্তিগত ও গোপনীয় তথ্য হাতিয়ে দেওয়া ও তা বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ ধৃত যুবকের বিরুদ্ধে।
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ধৃত যুবকের নাম বিনয় ভরদ্বাজ। তাঁর কাছ থেকে বাইজুস ও ভেদান্তু-দুই অনলাইন এডুকেশন অ্যাপ্লিকেশনের সমস্ত পড়ুয়াদের তথ্য় পাওয়া গিয়েছে। এছাড়াও দেশের ৮টি শহরের ১.৮৪ লক্ষ ক্যাব ব্যবহারকারী এবং গুজরাট ও ৬টি শহরের ৪.৫ লক্ষ বেতনভুক্ত কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্যও চুরি করে নিয়েছিল ওই যুবক, এমনটাই জানা গিয়েছে।
দেশের বড় বড় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যেমন জিএসটি, আরটিও, অ্য়ামাজন, ইউটিউব, পেটিএম, পেটিএম, বিগ বাস্কেট, বুক মাই শো, ইন্সটাগ্রাম, পলিসি বাজার, আপস্টক্সের মতো সংস্থার গ্রাহকদের যাবতীয় তথ্যও হাতিয়ে নিয়েছে ওই প্রতারক এমনটাই জানা গিয়েছে। প্রতিরক্ষা বিভাগ, সরকারি কর্মী, প্যান কার্ড হোল্ডার, নবম, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, প্রবীণ নাগরিক, দিল্লি ইলেকট্রিসিটির ব্যবহারকারী, ডি-ম্যাট অ্যাকাউন্ট হোল্ডার, নিট পড়ুয়া, বিমা, ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড ব্যবহারকারীদের গুরুত্বপূর্ণ গোপনীয় তথ্য চুরি করে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলেই অভিযোগ।
জানা গিয়েছে, ওই যুবক হরিয়ানার ফরিদাবাদে ‘ইন্সপায়ারওয়েবজ’ নামক একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রতারণা চক্র পরিচালন করত। বিভিন্ন ক্লাউড ড্রাইভ লিঙ্কের মাধ্যমে বিক্রি করত ডেটাবেস। এই ডেটাবেস আবার আমির সোহেল ও মদন গোপাল নামক দুই ব্যক্তির কাছ থেকে সংগ্রহ করত বিনয়। পুলিশ ওই যুবকের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন ও দুটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়েছে।