উত্তর কর্ণাটকে বিজেপির হারের কারণ লিঙ্গায়েত ভোট : পর্যবেক্ষকমহল

হুব্বালি,কর্ণাটক 13 মে: উত্তর কর্ণাটকের সাতটি জেলায় কংগ্রেসের বিশাল জয়কে বিজেপির দুর্গে একটি বড় ধাক্কা হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
কর্ণাটকের মোট জনসংখ্যার মধ্যে লিঙ্গায়েত সম্প্রদায় ১৭ শতাংশ। তারপরই রয়েছে ভোক্কালিগা। তারা ১১ শতাংশ। মূলত দক্ষিণ কর্ণাটকে মাইসোর অঞ্চলে ভোক্কালিগাদের বাস। ঐতিহাসিক ভাবে ১৯৯৯ সাল থেকে ভোক্কালিগারা জেডিএস-কেই ভোট দিয়ে আসছে। তবে ২০১৮ সালে দক্ষিণ কর্ণাটক বা মাইসোর অঞ্চলে বেশ ভালো ফল করেছিল বিজেপি। সেবারে ভোক্কালিগা অধ্যুষিত এলাকায় ডবল ফিগারে আসন লাভ করেছিল বিজেপি। তবে এবার সেই আসন সংখ্যা নেমে এসেছে ৫-এ। এই অঞ্চলে জেডিএস-এর একটা বড় অংশের ভোট গিয়েছে কংগ্রেসের দিকে। এর জন্যই এই অঞ্চলে ৩৬টি আসনে জিতেছে কংগ্রেস। এই অঞ্চলে আগেরবার যেখানে জেডিএস জিতেছিল ২৬টি আসন, তারা এবার এই অঞ্চলে পেয়েছে মাত্র ১৭টি আসন।
বেলগাভি, উত্তর কন্নড়, হাভেরি, গদগ, বিজয়পুরা, বাগালোকোট এবং ধারওয়াদে, লিঙ্গায়ত সম্প্রদায়ের উপস্থিতি বেশি এবং এই সম্প্রদায় যারা বিজেপির সমর্থক ছিলেন, তারা এবার কংগ্রেসকে সমর্থন করেছে বলে ফলাফল দেখে পর্যবেক্ষকমহল মনে করছে।
যদিও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, জগদীশ শেত্তর, যিনি বিজেপি থেকে কংগ্রেসে চলে এসেছিলেন, তাকে বিজেপি ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল। তা লিঙ্গায়ত সম্প্রদায় ভালভাবে নেয়নি। লিঙ্গায়তদের সর্বভারতীয় বীরশৈব সম্প্রদায়ও প্রকাশ্যে কংগ্রেসের প্রতি তাদের সমর্থন জানিয়েছিল এবং এটি নির্বাচনের দৌড়ে কংগ্রেসের জন্য একটি বড় উত্সাহ ছিল। প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী লক্ষ্মণ সাভাদি যিনি বিজেপি ছেড়েছিলেন, তিনি বেলগাভি জেলার আথানির আসন থেকে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে জিতেছেন। সাভাদি লিঙ্গায়ত সম্প্রদায়ের একজন শক্তিশালী নেতা। তাকে বিজেপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এর পিছনে ছিলেন সন্তোষ এবং বাসভরাজ বোমাই।
এদিকে দক্ষিণের মতো মধ্য কর্ণাটকেও এগিয়ে কংগ্রেস। এই অঞ্চলে ৭টি আসনে বিজেপি এগিয়ে। ১৭টি আসনে এগিয়ে কংগ্রেস। হায়দরাবাদ-কর্ণাটকেও অনেকটাই এগিয়ে কংগ্রেস। এই অঞ্চলে কংগ্রেস এগিয়ে ২৫টি আসনে। ১১টি আসনে এগিয়ে বিজেপি। এই অঞ্চলে জেডিএস ৩টি আসনে এগিয়ে। এদিকে কর্ণাটকে সার্বিক ভাবে পিছিয়ে পড়লেও বেঙ্গালুরু এলাকায় কংগ্রেসকে টক্কর দিয়েছে বিজেপি। এই অঞ্চলের ১৪টি করে আসনে এগিয়ে গেরুয়া এবং হাত শিবির। এছাড়া উপকূলীয় কর্ণাটকে অবশ্য এগিয়ে বিজেপি। এই অঞ্চলে ১২টি আসনে এগিয়ে বিজেপি। ৬টি আসনে এগিয়ে কংগ্রেস। এই অঞ্চল থেকেই সূচনা হয়েছিল হিজাব বিতর্কের। অপরদিকে উত্তর কর্ণাটকে বিজেপি অনেকটাই জমি হারিয়েছে। এই অঞ্চলে ৩৩টি আসনে জয়ী হয়েছে কংগ্রেস।