ধরনা মঞ্চে বসে থাকলে চাকরি মিলবে না, বলে ঘোষণা খাদ্যমন্ত্রীর

ধরনা মঞ্চে বসে থাকলে চাকরি পাওয়া যাবে না। সরকার ইতিমধ্যেই নিয়োগ প্রক্রিয়ার কথা ঘোষণা করেছে। সব ছেলেমেয়ে চাকরি পাবেন না। চাকরি পাওয়ার একটা নির্দিষ্ট পদ্ধতি আছে। চাকরি পেতে হলে সেই পদ্ধতির মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। রবিবার এ কথাই জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ। প্রসঙ্গত এই চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল। বিশেষ করে বিরোধীদল গুলিকে বিভিন্ন সময় দেখা গিয়েছে এই আন্দোলনকারীদের মঞ্চে গিয়ে তাদের সমর্থন জানিয়েছে। আর চাকরিপ্রার্থীদের তরফ থেকে দাবি তোলা হয়েছে, সবাইকেই চাকরি দিতে হবে। এদিন তাই খাদ্য মন্ত্রীর বক্তব্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে একটা প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি খাদ্য মন্ত্রীর করা সমালোচনা করেছেন। জেলার একটি বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, টেট নিয়ে আমি দেখলাম বিভিন্ন জায়গায় প্রচুর আন্দোলন হচ্ছে। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে যে ১১,৬৬৫ টা পদের জন্য যারা ২০১৪ সালে এবং ২০১৭ সালে উত্তীর্ণ হয়েছেন তারা ইন্টারভিউর জন্য বসতে পারবেন। আমাদের দলের থেকেও বোঝাতে হবে, এই উত্তীর্ণ হওয়া ছেলেমেয়েরা তো সবাই চাকরি পাবেন না। ধরনা মঞ্চে বসে থাকলেই যে চাকরি দেওয়া যাবে এমন কোনো ব্যবস্থা নেই। তার একটা প্রক্রিয়া আছে সেই প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়েই আপনি সুযোগটা পাবেন। এদিন খাদ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন সিপিএম নেতা তথা সংসদ ও আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, উনি ঠিকই বলেছেন চাকরি পাওয়ার নির্দিষ্ট পদ্ধতি আছে। তৃণমূল জামানায় চাকরি পাওয়ার পদ্ধতিটা কি তা তিনি বলেননি। তৃণমূলের শাসনে নির্দিষ্ট পদ্ধতি হল নেতা ও মন্ত্রীদের টাকা দেওয়া। এই নেতারা একবারও উল্লেখ করেননি নিশ্চিদ্র প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে মেধাভিত্তিক নিয়োগ হবে। বরং তৃণমূল নেতারা প্রক্রিয়া বলতে বোঝেন টাকা উপার্জনের পথ। ওরা যদি সৎভাবে নিয়োগের প্রক্রিয়াটা চালু রাখতে পারতেন বা আগামীদিনে চালু রাখার প্রতিশ্রুতি দেন তাহলে কিছু বলার ছিল না। কিন্তু ওরা তা পারবে না। তাই ছাত্র-ছাত্রীদের অনশন ও ধরনায় বসতেই হবে। চাকরি প্রার্থীরা তো চাইছেন সঠিক একটা পদ্ধতি যার মাধ্যমে মেধা নির্বাচিত হোক।অন্যদিকে, খাদ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের জবাবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, প্রক্রিয়া নিশ্চয়ই ছিল এবং আছে। সেই প্রক্রিয়াকে বাংলার শাসক দল চুরি প্রক্রিয়া করে তুলেছে। তৃণমূল সেই প্রক্রিয়াকে টাকা দিয়ে বিক্রি করেছে। অতএব এখন প্রক্রিয়া বিক্রিয়ার কথা বলে লাভ নেই। কাজটা করুন।
একইভাবে রথীন ঘোষের এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা তথা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীও। তিনি বলেন, চাকরি পাওয়ার নির্দিষ্ট পদ্ধতি কি তা তো আমরা দেখতেই পাচ্ছি। আগে তৃণমূল নেতাদের উৎকোচ দাও, তারপরে চাকরি হবে। দিদির জামানায় চাকরি পেতে হলে সাদা খাতা জমা দিতে হয়। তথ্য তো তাই প্রকাশ পাচ্ছে। বাংলা সরকারের মন্ত্রী হিসেবে যিনি এ কথা বলে থাকুন না কেন, আর এই বক্তব্যের মাধ্যমে ছাত্র-যুবক কর্মপ্রার্থীদের প্রতি একটা নিষ্ঠুরতা প্রকাশ পাচ্ছে। এই বক্তব্য প্রমাণ করে, ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি বঞ্চনাকে উপেক্ষা করে এই সরকার যারা দুর্নীতি করেছেন তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছে। এই সরকার চোরের পক্ষে। বঞ্চিত এবং প্রচারিত যে ছেলে মেয়েরা আজকে চাকরি পাচ্ছে না তাদের জন্য এই সরকারের কোনো মাথা ব্যথা নেই।
এদিকে খাদ্য মন্ত্রীর এই বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন চাকরি প্রার্থীরা। ধর্মতলায় অনশন মঞ্চ থেকে চাকরি প্রার্থীদের জবাব, ২০১৪ সালে ডেট দেওয়ার পর থেকে নির্দিষ্ট পদ্ধতির মধ্যে দিয়ে গেলেও তারা চাকরি পাননি। বরং পদ্ধতির উপর ভরসা করে তারা প্রতারিত হয়েছেন। তারা এমনও দাবী করেছেন, আলোর উৎসবে তাদের জীবন আলোক হীন। তাদের জীবন থেকে সমস্ত আলো কেড়ে নিয়েছে সরকার। যেহেতু তাদের জীবন আজ আলোকহীন হয়েছে দুর্নীতির কারণে তাই এই ধরনের বক্তব্য মূল্যহীন।