ক্যারাটে প্যাচে পাঁচার রোধ পাঠ ডুয়ার্স রানীর চা বলয়ে মেয়েদের আত্মরক্ষা শিখিয়ে স্বনির্ভর করছেন শুক্লা

Heroes of Humanity
A success story
দুটি পাতা একটি কুঁড়ির সংসারে ভরা সবুজের নীচে জমাট বাঁধা আঁধার রাত। খেলতে খেলতে হঠাৎ উধাও আঙিনার ফুল গুলো। ফিসফিস কথা ওড়ে। এ বাড়ির কিশোরীর মুখ আর দেখা যায় না। ও বাড়ির তরুণী বা গেল কই? কখনো অজান্তে, কখনো জেনে, কখনো উজ্জ্বল ভবিষ্যতের হাতছানিতে আড়কঠিদের বিশ্বাস করে মুখগুলো হারিয়ে যায় কোন অজানায়। চা মহল্লা থেকে মুছে যায় নাম।
মহল্লায় অন্যতম সমস্যা নারী ও শিশু পাচার। যা নিয়ে প্রশাসনের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। সেই সমস্যার বিরুদ্ধে লড়াই চালাচ্ছে ন আলিপুরদুয়ারের নতুন হাসিমারা শুক্লা দেবনাথ। একক চেষ্টায় এ পর্যন্ত বহু পাচার রুখতে পেরেছেন।
৩৬ বছরের শুক্লা পাচার বন্ধে সাঁড়াশি পন্থা অবলম্বন করেছেন। একদিকে আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবে এলাকার মেয়েদের শেখাচ্ছেন ক্যারাটে। অন্যদিকে তাদের স্বনির্ভর করতে বিউটিশিয়ান কোর্স করাচ্ছেন।
আলিপুরদুয়ারের কালচিনি আদিবাসী চা বলয়ে চা বাগান গুলোতে নারীরা একটা দৃশ্য আজকাল মাঝেমধ্যেই চোখে পড়ে চা গাছের ফাঁকে ফাঁকে বসানো কিছু চেয়ার। তাতে বসে আদিবাসী নারীরা। কজন তরুণী ব্যস্ত এদের রূপচর্চায়। সেই বাগানে দিয়ে অন্য প্রান্তে তখন হয়তো ক্যারাটে প্র্যাকটিস করছে কচিকাচারা। আর দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখছেন শুক্লা।
২০০৩ সালে মাধ্যমিক করার পর স্কুলে যাওয়ায় সাইকেলটা মাত্র 700 টাকায় বিক্রি করে বিটিশন কোর্স ও ক্যারাটে শিখেছিলেন শুক্লা। সেই শিক্ষায় এখন ছড়িয়ে দিয়েছেন চা মহল্লায়। উদ্দেশ্য স্পষ্ট ১. রুখতে হবে নারী ও শিশু পাচার ২. পড়াতে হবে স্বনির্ভর্তার পাঠ.৩. জানাতে হবে আত্মরক্ষার কৌশল।
প্রথম দিকে শুক্লার কাজকর্ম ঠাট্টায় ছলে উড়িয়ে দিতেন সবাই। জূর্ত ব্যঙ্গ বিদ্রুপও। অথচ টানা কুড়ি বছর অনেকটা ঘরের মেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর মত কাজ চালিয়ে গিয়েছেন তিনি। পরিবারের পাঁচ বোনের চতুর্থ শুক্লা। বাকিরা বিয়ে থাক পরে সংসার হলেও সে পথে হাঁটা হয়নি তার। তিনি অবিচল নিজের লক্ষ্যে। যা বলে বহু নারী ও শিশুর পাচার আটকাচ্ছেন।
প্রায় একক চেষ্টায়। তারই মধ্যে সাহিত্যে স্নাতকোত্তর করেছেন। দূরশিক্ষায় করেছেন বিএড ও। আসলে স্কুলে পড়তে পড়তেই অনেক সহপাঠীকে হারিয়ে যেতে দেখেছিলেন। জেদ শুরু সেই থেকেই। শুকলার কথায় চা বলে বড় হয়ে ওঠার কারণে অগুনতি নারী ও শিশুকে পাচার হতে দেখেছি। তখনই মনে একটা জেদ চেপে বসে। তাই ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। প্রথম দিকে পরিবারের ও সায় ছিল না। কিন্তু আজ ভাবতে ভালো লাগে যে কিছুটা হলেও ওদের পাশে দাঁড়াতে পেরেছি। এটাই আমার জীবনের পরমপ্রাপ্তি।
নারী পাচার রুখতে গিয়ে বার চারেক নিজেও পড়েছেন পাচারকারীদের খপ্পরে। বেঁচেছেন পুলিশের সহায়তায় তবুও নিরক্ষর আদিবাসী ও নেপালি অভিভাবকদের বোঝানোর কাজ চালিয়ে গিয়েছেন শুক্লা।সাদ্রী আর গোরখালী ভাষায় দখল রয়েছে তার। তার যে কোন
ছুপরি ঘরে ঢুকে হাঁড়ির খবর নিতে সময় লাগে না।তাছাড়া বিশস্ত অনুগামীদের মোবাইল টাকা ভরে দিয়ে গড়েছেন এক দুর্দান্ত যার ফলে পাচারের খবর পাওয়া সহজতর হয়েছে।

চাবাগান থেকে ও যে বিকল্প রোজগার সম্ভব, ক্রমাগত কাউন্সেলিং যে -চা বাগানের মেয়েদের সেটা ও বোঝাতে পেরেছেন।

এখন তার নেটওয়ার্ক এমনই যে
কালচিনি চা বলয়ে যে কোন বাগান থেকে কেউ পাচারের মতলব আটলেই খবর পৌঁছে যায় শুকলার কাছে। প্রথমে নিজেকে বুঝিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। নেহাত অপরাগ হলেন পুলিশের প্রশাসনের সাহায্য নেন।