সময় গেলেও কেন্দ্রের বঞ্চনার ছবি বদলাচ্ছে না, রাজ্যের তিন হাজার কোটি টাকা ন্যায্য পাওনা মিলছে না

বরাদ্দ নিয়ে কেন্দ্র রাজ্য সংঘাত কোনো নতুন বিষয় নয়। একদিকে যখন বিরোধী শাসিত রাজ্য সরকার গুলি দাবি করছে কেন্দ্রীয় সরকার তাদের প্রাপ্য বরাদ্দ দিচ্ছে না। ঠিক সেখানে উল্টো চিত্র ডবল ইঞ্জিন সরকার শাসিত রাজ্য গুলিতে। ফলে বৈষম্যের চিত্র প্রকট। এবার বাংলায় এমনই বৈষম্যের ছবি ধরা পরল পুর ও নগর উন্নয়ন দপ্তরে। অভিযোগ তৃণমূল শাসিত সরকার যে কাজ করছে তাকে স্বীকৃতি দিলেও বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে গড়িমওসি করছে কেন্দ্রীয় সরকার। আর এর ফলেই বঞ্চিত হচ্ছে রাজ্য। বঞ্চিত হচ্ছে রাজ্যের মানুষ।
যদিও যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় এমনটা হওয়ার কথা নয়। কেন্দ্রীয় প্রকল্প রূপায়ণে বড় ভূমিকা থাকে রাজ্যের। আর তাই রাজ্য সরকার গুলিকে নির্দিষ্ট সময়ে বরাদ্দকৃত অর্থ প্রদান করা কেন্দ্রের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। কিন্তু বহু ক্ষেত্রে প্রকল্প রূপায়ণের জন্য যে অর্থ বরাদ্দ করার কথা কেন্দ্রে তা দিচ্ছে না কেন্দ্র। বহু ক্ষেত্রে রাজ্য খরচ করেও তা পাচ্ছে না। ঠিক যেমনটি ঘটেছে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের ক্ষেত্রে। এই দপ্তরের একাধিক কাজকে কেন্দ্রীয় সরকার স্বীকৃতি দিলেও বহু ক্ষেত্রেই বরাদ্দ মিলছে না। আর তাতেই বিপাকে নবান্ন। রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক ভবন সূত্রে খবর, বিভিন্ন প্রকল্প মিলে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা আটকে রয়েছে।
নবান্নের শীর্ষ আধিকারিকের কথায়, স্বচ্ছতা বজায় রেখে পুর-পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ করায় সম্প্রতি বাংলাসহ একাধিক রাজ্যকে বিশেষ উত্‍সাহ ভাতা ঘোষণা করেছে মোদি সরকার। এই তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি বিহার, কর্ণাটক, সিকিম, উত্তর প্রদেশ ও মহারাষ্ট্রের নাম রয়েছে।গত সপ্তাহে বাংলা সহ দেশের চারটি রাজ্য এই ভাতা পেয়েছে। এক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশ এবং মহারাষ্ট্রকে উৎসাহভাতার টাকা প্রদান করা হলেও বাংলার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের একটি কানাকড়িও পৌঁছয়নি এ রাজ্যে।
বরাদ্দ বকেয়া আছে শুধু এখানেই এমনটা নয়। আরো জানা গিয়েছে,পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের অধীনে ২০২০-২১ অর্থবর্ষে বাংলা পেয়েছিল প্রায় ২১০০ কোটি টাকা। ২০২১-২২ অর্থবর্ষের দু’টি কিস্তি এবং চলতি অর্থবর্ষের একটি কিস্তির প্রাপ্য এখনও পাওয়া যায়নি। আর এক্ষেত্রে রাজ্যের আধিকারিকদের দাবি,২০২০-২১ অর্থবর্ষে পাওয়া বরাদ্দের যাবতীয় হিসেব সম্প্রতি পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রকে। টাকা পেতে গেলে আগামী চার বছরের কাজের পরিকল্পনার খসড়া জমা দিতে হয় কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রকে। সেই কাজও শেষ করেছে রাজ্য। পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের অধীনে নগরোন্নয়ন খাতে পাঁচ বছরে রাজ্যের প্রাপ্য প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু প্রথম বছরের কিস্তির পর আর কোনও টাকা দেয়নি কেন্দ্র। অতএব সামগ্রিকভাবে সেই বঞ্চনার ছবি আবারও স্পষ্ট।