বাইবেল বিলি শিশুদের শিক্ষার জন্য উৎসাহিত করা, ধর্মান্তরিত করার জন্য লোভ দেখানো নয়: ইলাহাবাদ হাইকোর্ট

লখনউ ৭সেপ্টেম্বর:যোগীরাজ্যে জোর করে ধর্মান্তকরণ আটকাতে আইন রয়েছে। উত্তরপ্রদেশে সেই আইন অনুযায়ী বাইবেল বিতরণকে কখনও বেআইনিভাবে ধর্মান্তকরণের প্রচেষ্টা বলা যাবে না। ইলাহবাদ হাইকোর্টের লখনউ বেঞ্চের বক্তব্য, বাইবেল বিতরণ এবং ভাল শিক্ষা দেওয়া কখনওই প্রলোভন দেখিয়ে ধর্মান্তকরণের সমান নয়। সেই সঙ্গে উচ্চ আদালত আরও বলেছে, কোনও অপরিচিত ব্যক্তি এই আইনের আওতাই এফআইআর দায়ের করতে পারে না। এছাড়া তপশিলি জাতি ও তপশিলি উপজাতির লোকজনকে ভুলিয়ে খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তকরণের অভিযোগে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে জামিন দিয়েছে আদালত ।
গত ২৪ জানুয়ারি আম্বেদকর নগর জেলায় বিজেপির কর্মকর্তারা অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তার ভিত্তিতে পুলিশ অভিযোগ দায়ের করে এবং দুই অভিযুক্ত হোসে পাপাচেন ও শিজা নামের দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। তাদের জামিনের আবেদন খারিজের বিরুদ্ধে বিচারপতি শামিম আহমেদের বেঞ্চ আপিল করারও নির্দেশ জারি করেছে।
অভিযোগকারী বিজেপি নেতার অভিযোগ, ওই দুই জাতের লোকজনকে দুই অভিযুক্ত খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত করছিল। আদালত সেই অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে বলেছে, এই বিষয়ে যে আইন রয়েছে, সেই অনুযায়ী একমাত্র ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযোগ দায়ের করতে পারে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে তাদের দাবি, তারা নির্দোষ ও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার শিকার হয়েছে।
আদালত বলেছে, আবেদনকারীরা প্রাথমিকভাবে শিশুদের ইতিবাচক শিক্ষা প্রদান এবং গ্রামবাসীদের মধ্যে ঐক্যের বোধ জাগিয়ে তোলার কাজে নিযুক্ত বলে মনে হচ্ছে। তাই, জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত হওয়ার ইঙ্গিত করে এমন কোন প্রমাণ রেকর্ডে ছিল না ।তাই অভিযোগকারীর এফআইআর দায়ের উচিত হয়নি। আদালত আবেদনকারীদের জামিন মঞ্জুর করেন।
আবেদনকারীদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী বিশ্বনাথ প্রতাপ সিং।