গাজার হাসপাতালে বিস্ফোরণের ঘটনার তীব্র নিন্দা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির

নয়াদিল্লি:গাজার হাসপাতালে বিস্ফোরণের ঘটনার তীব্র নিন্দা করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এর আগে হামাসের কার্যকলাপের কঠোর সমালোচনা এবং ইজরায়েলের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেছিলেন তিনি। এবার হাসপাতালে শত শত নাগরিকদের প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ করলেন প্রধানমন্ত্রী।বুধবার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘গাজার আল-আহলি আরব হাসপাতালে এতগুলি সাধারণ নাগরিকের প্রাণহানির ঘটনায় আমি স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছি। মৃতদের পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা। যারা জখম হয়েছেন, তাঁদের দ্রুত সুস্থতার কামনা করছি।’ একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সংযোজন, ‘যুদ্ধে আহত এবং মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই ঘটনার পিছনে যারা দায়ী তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।’
উল্লেখ্য,মঙ্গলবার রাতের এই বিস্ফোরণে গাজার আল-আহলি হাসপাতালে মোট ৫০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আরও বহু মানুষ জখম হয়েছে। বিস্ফোরণের নানা শিউরে ওঠার মতো ছবি ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন ঘটনার সময়কার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা।
আল-আহলি হাসপাতালে হওয়া হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে গোটা বিশ্ব। হাসপাতালে চালানো হামলা নজিরবিহীন বলে উল্লেখ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি রিচার্ড পিপারকর্ন বলেছেন, ‘মাত্রার দিক থেকে এই হামলা নজিরবিহীন। আমরা অধিকৃত প্যালেস্তাইন ভূখণ্ডের উপর এমনই ধারাবাহিক হামলা দেখছি।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এই হামলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং হাসপাতালে ওই হামলাকে ভয়াবহ এবং একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন। নিন্দা জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোও।প্যালেস্তান সরকারের স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা বলেন, ‘শয়ে শয়ে মানুষকে চোখের সামনে কাতরাতে কাতরাতে মরে যেতে দেখেছি। তাঁদের যন্ত্রণার শব্দ এখনও কানে বাজছে। সেই দৃশ্য় যে কতটা ভয়াবহ তা বলে বোঝাতে পারব না।’
হাসপাতালে বিস্ফোরণ নিয়ে ইতিমধ্যেই বিবৃতি দিয়েছে ইহুদি রাষ্ট্র। এদিন আইডিএফ-র মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল জোনাথন কনরিকাস বলেন, ‘আমাদের তরফে কোনও হাসপাতালে এয়ারস্ট্রাইক করা হয়নি। আমরা শুধুমাত্র জঙ্গিদের গোপন আস্তানাগুলিই টার্গেট করছি। ।’
হামাসের তরফ থেকে গত রাতেই হাসপাতালে বিস্ফোরণের জন্য ইজরায়েলি বায়ুসেনাকে দায়ী করা হয়েছে। যদিও তা অস্বীকার করেছে ইজরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ)। সব মিলিয়ে গাজার হাসপাতালের এই বিস্ফোরণের ঘটনায় অভিযোগ-পালটা অভিযোগ চলছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ২৭৭৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। মিডিয়া রিপোর্টে ইসরায়েলি সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে যে ইসরায়েলে অন্তত ১,৪০০ ইসরায়েলি ও বিদেশী নাগরিক নিহত হয়েছে।