ইম্ফল:ছমাস ধরে উত্তপ্ত মণিপুর। এখনও শান্তি পুরোপুরি ফেরেনি সেখানে। মণিপুরে এখনও আছে চাপা উত্তেজনা। বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে প্রচুর পরিমাণে অস্ত্র উদ্ধার করছে পুলিশ এবং সেনা।
এই পরিস্থিতিতে কুকি-জো সম্প্রদায়ের একটি সংগঠন আদিবাসী উপজাতীয় নেতা ফোরাম (আইটিএলএফ)অভিযোগ করেছে, মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং উত্তর-পূর্ব রাজ্যে জাতিগত বিরোধে “উস্কানি দিয়েছেন” যা মে মাসের প্রথম দিকে শুরু হয়েছিল। আরএসএস- প্রধান মোহন ভাগবতের মন্তব্য, বর্তমানে মেইতি এবং কুকিস, রাজ্যের দুটি যুদ্ধরত সম্প্রদায় অথচ দীর্ঘদিন ধরে তারা একসাথে বসবাস করছে। আগে উভয় পক্ষের মধ্যে কোনও সংঘর্ষ হয়নি।নাগপুরে আরএসএস দশেরার সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে ভাগবত বলেন, “আসলে সংঘর্ষে ইন্ধন জুগিয়েছে কে? এটি (হিংসা) ঘটছে না, এটি ঘটতে দেওয়া হচ্ছে।” এক বিবৃতিতে, আইটিএলএফ অভিযোগ করেছে যে তার (মোহন ভাগবত) প্রশ্নের উত্তর মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংই।মুখ্যমন্ত্রী প্ররোচনা দিয়ে এসব ঘটাচ্ছেন।
উপজাতীয় সংগঠনটি মণিপুর পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক প্রশ্নও উত্থাপন করেছে। যেমন, কেন আফস্পা সম্প্রতি শুধুমাত্র উপত্যকা অঞ্চলে সরানো হয়েছে, পার্বত্য জেলাগুলিতে নয়।মেইতিরা প্রধানত ইম্ফল উপত্যকায় বাস করলেও, কুকিরা পার্বত্য জেলায় সংখ্যাগরিষ্ঠ। আদিবাসী উপজাতীয় নেতা ফোরাম দ্বারা উত্থাপিত আরেকটি প্রশ্ন হল: “ভারতীয় বন আইন, ১৯২৭-এর অধীনে ‘সংরক্ষিত’ বন সংক্রান্ত ১৯৬৬ সালের সরকারি বিজ্ঞপ্তি কেন হঠাৎ কার্যকর করা হল ২০২৩সালে?”
মণিপুরে সংঘর্ষের আগে আদিবাসীদের সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে তাদের উচ্ছেদ করার জন্য রাজ্য সরকারের একটি অভিযানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছিল।
আদিবাসী উপজাতীয় নেতা ফোরামের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “গত কয়েক বছরে মণিপুর যা দেখেছে তা ছিল সংবিধানের অধীনে উপজাতীয়রা যে অধিকার এবং সুরক্ষা উপভোগ করেছে তার উপর একটি অত্যন্ত সমন্বিত আক্রমণ।”
মণিপুরের জনসংখ্যার প্রায় ৫৩ শতাংশ মেইতি এবং বেশিরভাগ ইম্ফল উপত্যকায় বাস করে। উপজাতীয় নাগা এবং কুকিরা ৪০ শতাংশের কিছু বেশি এবং পার্বত্য জেলায় বসবাস করে।
মে মাস থেকে শুরু হয় মণিপুরে অশান্তি। এই অশান্তি এবং সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত সেখানে মারা গিয়েছেন প্রায় ১৮০জন এবং আহত হন চার শতাধিক। আরএসএস প্রধানের মতে মণিপুরে হিংসা ঘটছে না। সেখানে হিংসা ঘটতে দেওয়া হচ্ছে। সেখানে হিংসা এবং অশান্তির জন্য পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে বলেও দাবি তাঁর। কারা এই সংঘাতে ইন্ধন জুগিয়েছিল তাও দেখা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
