ইনামুল হক,বসিরহাট: আয়লা, আমফানসহ একাধিক সাইক্লোনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বার বার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র। বিভিন্ন সাইক্লোনের কারণে সুন্দরবনের মানচিত্র পাল্টে গিয়েছে।তার উপরে লাগাতার বর্ষণের দরূণ জঙ্গলের মধ্যে জল ঢুকে প্লাবিত হয়েছে । ফলে একদিকে নষ্ট হয়েছে বন্যপ্রাণীদের বাসস্থান। অন্যদিকে অভাব দেখা দিয়েছে তাদের খাবারের। তাই তারা খিদের জ্বালায় বিভিন্ন সময়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে খাবারের সন্ধানে। কখনো কখনো বাঘ, কুমিরের মতো প্রাণী লোকালয়ে চলে আসছে। সেই সাথে প্রায়ই জল জঙ্গল ছেড়ে খাল বিল পেরিয়ে গ্রামে ঢুকতে গিয়ে মৎস্যজীবীর পাতা জালে, কখনো আটোলে আটকা পড়ছে বিষধর সাপ বা অন্যান্য সরীসৃপ। ফলে স্বাভাবিকভাবে আতঙ্কে এলাকাবাসী। সাপড়ে কামড়ে মৃত্যুর খবরও পাওয়া যাচ্ছে। এলাকাবাসী জানাচ্ছে গত কয়েক মাসে সুন্দরবনের হিঙ্গলগঞ্জ এলাকায় ১৫-২০ টি সাপ উদ্ধার হয়েছে। শুক্রবার ভোরে দু’টি পৃথক স্হানে মৎসজীবীর আটোলে আটকালো আট ফুটের দুটি কেউটে। প্রথমটি উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের হিঙ্গলগঞ্জের উত্তর মামুদপুরে। অন্যটি স্বরূপকাটির এমএলএ স্কুল এলাকায়। মৎস্যজীবী কল্যান মেটা ও গৌর মন্ডল সকাল বেলা আটল তুলতে গিয়ে দেখতে পান আটলে ৫ থেকে ৬ হাত বিশাল আকারের বিষধর কেউটে সাপ। যা দেখে চক্ষু চড়ক গাছ। আটল তুলতে গিয়ে মৎস্যজীবীরা ভয় পেয়ে যান।খবর দেওয়া হয় গ্রামে। গ্রামবাসীরা এসে বাঁশের সহযোগিতায় আটোলটি তুলে নিয়ে আসে এলাকায়।এই বিশাল আকারে সাপ দেখার জন্য এলাকার মানুষজন ভিড় জমায়। এলাকার মানুষজন সাপ দুটিকে মারতে উদ্যত হয়।কিন্তু ততক্ষণে ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির বসিরহাট শাখার সদস্য তথা কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য দীপক পাত্রের কাছে খবর চলে যায়। তিনি বলেন, আমরা মনে করি এই ধরনের প্রাণীদের হত্যা না করে প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত।এছাড়া আমরা সাপ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার জন্য,সাপ:কুসংস্কার ও বিজ্ঞান’শিরোনামে একটি স্লাইড শো করি।বিভিন্ন স্থানে কখনো ও বিভিন্ন ক্লাবের আমন্ত্রণে আবার কখনো বা নিজেদের উদ্যোগ নিয়ে করতে হয়।তিনি আরো বলেন, গ্রামের মানুষদের বোঝানোর ফলে তারাও বুঝতে পারেন যে এই সমস্ত প্রাণীদের প্রকৃতির কোলে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত। তিনি আরো বলেন, এ ব্যাপারে সরকারি সহযোগিতাও তেমন মিলছে না।বনদপ্তরে ফোন করা হলে অনেক সময় ওরা নানারকম বাহানাও দেখাতে শুরু করেন।যদিও এদিন এই সাপ দুটি বনকর্মীরা উদ্ধার করে নিয়ে যায়।বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বিষধর সাপগুলি খাবারের সন্ধানে লোকলয়ে ঢুকে পড়েছিল। খাবার জোগাড় করতে বিভিন্নভাবে মৎস্যজীবীদের জালে আবার কখনো আটোলে বন্দী হচ্ছে। বনদফতর সূত্রে জানা গেছে, বিষধর ওই সাপ দুটি’কে আগামী দুই তিন দিন পর্যবেক্ষণে রেখে তার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। তারপর সুস্থ থাকলে গভীর জঙ্গলে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে বিপর্যস্ত সুন্দরবনকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে আরো বেশি করে ম্যানগ্রোভ লাগাতে হবে। প্রকৃতিকে নষ্ট করা আটকাতে সমস্ত দিক দিয়ে উদ্যোগ নিতে হবে।
