পাটনা ২৯অক্টোবর:গাজায় যুদ্ধবিরতির বিষয়ে রাস্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে ভারতের অবস্থান নিয়ে আরজেডি প্রধান লালুপ্রসাদ যাদব প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের নিন্দা করেছেন।
তিনি বলেন, দেশের বিদেশ নীতি নিয়ে কেন্দ্রের খেলা করা উচিত নয়।লালুপ্রসাদ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন,
“এই প্রথম ভারত মানবতা ও বিশ্বে শান্তির জন্য সামনের সারিতে দাঁড়ানোর পরিবর্তে একটি দোদুল্যমান নীতি বেছে নিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বিদেশ নীতি নিয়ে খেলা বন্ধ করা উচিত। মানবাধিকারের প্রতি সংবেদনশীলতা আমাদের বৈদেশিক নীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত “।
ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার ২০ দিন পর রাষ্ট্রসংঘ তার সাধারণ পরিষদে মানবিক ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব এনেছিল। কমপক্ষে ১২০টি দেশ যুদ্ধবিরতির পক্ষে ভোট দিয়েছে এবং ১৪টি দেশ এর বিপক্ষে ভোট দিয়েছে; ভারত, গ্রেট ব্রিটেন, কানাডা, জার্মানিসহ ৪৫টি দেশ ভোটদান থেকে দূরে ছিল।
ইসরায়েলের বিমান হামলার কারণে গাজায় মানবিক সংকট দেখা দেওয়ায় বিরোধী নেতারা সরকারের পদক্ষেপের তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন।
ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদে ভোটাভুটিতে ভারত বিরত থাকায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে সিপিআই(এম) এবং সিপিআই।
সিপিআই(এম) এবং সিপিআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের অধীনস্থ অনুচরের মতো পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে চলেছে ভারত। জাতিসঙ্ঘে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং মানবিক ও আইনি বিধি মানার প্রস্তাবে ভোট না দেওয়া স্তম্ভিত করে দেওয়ার মতো ঘটনা।
সিপিআই(এম)’র সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি এবং সিপিআই’র সাধারণ সম্পাদক ডি রাজা ভারতের অবস্থানের প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। প্রসঙ্গত, ভারত ভোট না দিলেও বিপুল সংখ্যাধিক্যে পাশ হয়েছে ওই প্রস্তাব। ইহুদিবাদী ইসরাইল গাজায় বর্বর হামলা চালানোয় কয়েক হাজার মানুষ হতাহত হয়েছে। একনাগাড়ে চলতে থাকা ওই হামলায় সেখানে ভয়াবহ মানবিক সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে।
যুদ্ধ বিরতি নিয়ে আরব দেশগুলোর পক্ষে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদে প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল জর্ডান। ওই প্রস্তাবে নিরীহ নাগরিকদের নিরাপত্তাপ্রদান করা থেকে তাদের মানবাধিকার রক্ষার কথা বলা হয়। ভোটাভুটি শুরু হলে, প্রস্তাবের সক্ষে ১২০টি দেশ ভোট দেয়। প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দেয় ১৪টি দেশ। ভোটদান থেকে বিরত থাকে ৪৫টি দেশ, যার মধ্যে অন্যতম হল ভারত। এরপরেই ওই ইস্যুতে ভারতের অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিরোধী দলীয় নেতারা।
