‘ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের টার্গেট করা হয়েছে, কারণ তারা সঠিক তথ্য দিচ্ছে, ইসরাইল তাদের দমন করতে চায়’ : প্রাক্তন প্রেসক্লাব অফ ইন্ডিয়ার প্রধান উমাকান্ত লাখেরা

নয়াদিল্লি ১নভেম্বর:প্রবীণ সাংবাদিক এবং প্রেসক্লাব অফ ইন্ডিয়ার প্রাক্তন সভাপতি উমাকান্ত লাখেরা বলেছেন, “পশ্চিমা মিডিয়া এবং দুর্ভাগ্যবশত, ভারতীয় মিডিয়াও, ফিলিস্তিনি জনগণের গণহত্যা চালানোর জন্য ইসরাইলের লুকানো এজেন্ডা পূরণ করতে যুদ্ধক্ষেত্রের প্রকৃত তথ্য লুকাতে বাধ্য হচ্ছে ।”
চার দশকেরও বেশি সময় ধরে রিপোর্টিং করার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন লাখেরা বলেন,“যে সাংবাদিকরা ৭ অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় বেসামরিক এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বোমাবর্ষণের কারণে ফিলিস্তিনিদের দুর্দশার বিষয়ে রিপোর্ট করছেন তারা ইসরাইলি সেনাবাহিনীর লক্ষ্যবস্তু হচ্ছেন। এটি সাংবাদিকদের টার্গেটেড কিলিং। এটা যুদ্ধাপরাধের শামিল। যুদ্ধের উন্মত্ততায় ইসরাইল বার্তাবাহকদের হত্যা করছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আন্তর্জাতিক আইন মানছে না। সাংবাদিকদের ইসরাইল শত্রু ভেবে হত্যা করেছে।”
তিনি রাষ্ট্রসংঘের কাছে একটি প্রস্তাব পাস করার অনুরোধ করেন,যাতে যুদ্ধ অঞ্চলে সশস্ত্র বাহিনী সাংবাদিকদের টার্গেট না করে। কারণ তারা যুদ্ধের কোন দলের অংশ নয় এবং জনগণকে স্থল বাস্তবতা সম্পর্কে অবহিত করার দায়িত্ব পালন করছে।তিনি মন্তব্য করেন, “সাংবাদিকদের টার্গেট করে ইসরাইল যা করছে তা যুদ্ধাপরাধের চেয়েও খারাপ”।
আন্তর্জাতিক মিডিয়া সংস্থাগুলির সংকলিত তথ্য অনুসারে [কমিটি ফর প্রোটেকশন অফ জার্নালিস্ট (সিপিজে) এবং রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস, বা রিপোর্টার্স স্যানস ফ্রন্টিয়েরস (আরএসএফ)] ৭ অক্টোবর হামাস ইসরাইলে আক্রমণ শুরু করার পরে গাজা উপত্যকায় একনাগাড়ে ইসরাইলি বোমাবর্ষণে অন্তত ৩১ জন সাংবাদিকের জীবন শেষ হয়েছে । কিন্তু গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় তিন নারী সাংবাদিকসহ ৩৪ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। ইসরাইল (চার) ও লেবাননে (এক) সাংবাদিক নিহত হলে সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৯। মিঃ লাখেরা বলেছেন, এত বড় সংখ্যক সাংবাদিক অতীতে কোন যুদ্ধে প্রাণ হারাননি। কেউ জানে না গাজা উপত্যকায় আরও কত সাংবাদিক নিহত হবে কারণ বিশ্ব সম্প্রদায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আবেদন করলেও ইসরাইলি পদক্ষেপ অবিরাম অব্যাহত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় বসবাসকারী সাংবাদিকরা তাদের পরিবারের অনেক সদস্যকেও হারিয়েছেন।
নিহত সাংবাদিকদের বেশিরভাগই আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় মিডিয়া হাউস, বিশেষ করে টেলিভিশন এবং ডিজিটাল মিডিয়ার জন্য কাজ করা ফিলিস্তিনি সাংবাদিক বলে জানা গেছে।
সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান যুদ্ধে ২৬ ফিলিস্তিনি, চারজন ইসরাইলি ও একজন লেবানিজ সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া আট সাংবাদিক আহত হয়েছেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা – রয়টার্স এবং এজেন্স ফ্রান্স প্রেস (এএফপি) – গাজা উপত্যকা থেকে রিপোর্ট করা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইডিএফকে চিঠি দিয়েছে। কিন্তু আইডিএফ কোনো গ্যারান্টি দিতে অস্বীকার করে বলেছে, সংবাদ সংস্থাগুলো তাদের সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য ব্যবস্থা নেবে।
যুদ্ধ কভার করা সাংবাদিকদের জীবনের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য যে কোন দায়িত্ব নেওয়ার জন্য আইডিএফ-এর কুরুচিপূর্ণ জবাব সাংবাদিকদের উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।
প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে অনেক ফিলিস্তিনি সাংবাদিককে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ ফোনে হুমকি দিয়েছে। তাদের জীবনের জন্য এত গুরুতর হুমকি থাকা সত্ত্বেও, সাংবাদিকরা ৭ অক্টোবর থেকে ইসরাইলের নিরবচ্ছিন্ন বোমাবর্ষণ এবং এখন গত তিন দিন ধরে গাজা উপত্যকায় স্থল হামলার ফলে সৃষ্ট হতাহতের ঘটনা এবং ধ্বংসযজ্ঞের বিষয়ে মিনিট-টু-মিনিটের রিপোর্ট দিচ্ছে।