অযোধ্যা মসজিদ ফাউন্ডেশন নিজেকে ‘পবিত্র’ ইট থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে

নয়াদিল্লি ৮ ফেব্রুয়ারি:অযোধ্যার ধন্নিপুর গ্রামে একটি মসজিদ নির্মাণের জন্য সউদি আরবের মক্কা মদিনা থেকে একটি ‘পবিত্র ইট আনা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।অথচ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান তথা উত্তরপ্রদেশ সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের প্রধান যাফর ফারুকি বলেছেন,মক্কা বা মদিনা থেকে এমন কোন ইট আনা হয়েছে বলে আমার জানা নেই।ইন্দো-ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশনের মুখপাত্র আতহার হুসেনও বলেন, “কোন স্থান থেকে ভারতে আনা এই ধরনের ইট সম্পর্কে আমার কোন জানা নেই ,জ্ঞানও নেই। তহবিল সংগ্রহের জন্য হাজি আরাফাত শেখকে মসজিদ মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান এবং ইন্দো-ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশনের সদস্য করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে যে তিনিই কেবল এর জন্য কাজ করবেন।”
দাবি করা হয়েছে, ইন্দো-ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন বা আইআইসিএফ নামে একটি ট্রাস্ট তৈরি করেছে উত্তরপ্রদেশ সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ড।কিন্তু এই বোর্ডের দু’জন সদস্য ইটের বিষয়ে কিছুই জানেন না।
আইআইসিএফ-এর অন্যতম সদস্য, হাজি আরাফাত শেখ বলেছেন, “এটা আল্লাহর কাজ। তাঁর ইচ্ছায়, ইসলামের পবিত্রতম শহর থেকেই এই কাজ শুরু করার থেকে ভাল কিছু হয় না। তাই, আমরা মক্কা থেকেই আমাদের যাত্রা শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমি মহারাষ্ট্র থেকে মক্কায় সদ্য তৈরি করা একটি ইট নিয়ে গিয়েছিলাম। জমজমের পবিত্র কুয়োর পানিতে ইটটিকে গোসল করিয়েছিলাম। তারপরে আমরা ইটটি মদিনা শরীফে নিয়ে যাই এবং আরও একবার গোসল করাই এবং সেখানে নামাজ পড়ি। ২ ফেব্রুয়ারি মহারাষ্ট্রে ইটটি ফেরত আনা হয়েছে। এরপর, ইটটি আজমীর শরীফে নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখানে নামায পড়ার পর অযোধ্যায় নিয়ে যাওয়া হবে।”
তিনি আরও জানিয়েছেন, অযোধ্যায় কীভাবে ইটটি নিয়ে যাওয়া হবে, তার পরিকল্পনা এখনও চূড়ান্ত করা যায়নি। অনেকেই বলছেন ই়টটি পায়ে হেঁটে নিয়ে যেতে। তাতে ৩০ দিন সময় লাগবে। আবার কেউ কেউ বলছে সড়কপথে গাড়িতে বা ট্রেনে করে নিয়ে যেতে। কারণ, আমাদের অযোধ্যায় যাত্রার সময় আমাদের সঙ্গে হাজার হাজার মানুষ থাকবেন।” তিনি জানিয়েছেন, পুরো যাত্রাটি এমনভাবে পরিকল্পনা করা হবে যাতে এপ্রিলের মধ্যেই ইটটি অযোধ্যায় পৌঁছয়। মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে আর দেরি করতে চায় না মসজিদ কমিটি।
সূত্রের খবর, অযোধ্যার এই মসজিদ থেকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা দিতে, এ স্থানের মসজিদের জমিতে শুধু ধর্মস্থান হবে না, এতে থাকবে হাসপাতাল এবং শিক্ষাকেন্দ্রও। যা থেকে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া ৯ হাজার লোকের একসঙ্গে নামায পড়ার মতো ব্যবস্থা থাকবে।
৯ নভেম্বর, ২০১৯-এ সুপ্রিম কোর্ট অযোধ্যায় একটি মসজিদ নির্মাণ এবং বিকল্প জায়গায় পাঁচ একর জমি বরাদ্দের নির্দেশ দিয়েছিল।
অযোধ্যা শিরোনাম মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আদেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মসজিদ কমপ্লেক্সের জন্য জমি রাজ্য সরকার উত্তরপ্রদেশ সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ডকে দিয়েছিল।