মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রাক্তন ৮ ভারতীয় নৌসেনা কর্তাকে মুক্তি কাতারের ,তারা কারা? কেন এটা ভারতের কূটনৈতিক জয়?

নয়াদিল্লি ১২ ফেব্রুয়ারি:গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আট ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রাক্তন কর্তাকে মুক্তি দিয়েছে কাতার। ইতিমধ্যেই তাঁদের মধ্যে সাতজন দেশে ফিরেছেন। সোমবার, ১২ ফেব্রুয়ারি এই খবর জানানো হয়েছে সরকারের তরফে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে দীর্ঘ ১৮ মাস কারাভোগ করার পর তাঁরা দেশে ফেরেন। মুক্তি পাওয়া আট প্রাক্তন নৌসেনা কর্তা হলেন ক্যাপ্টেন নভতেজ সিং গিল, ক্যাপ্টেন বীরেন্দ্র কুমার বার্মা, ক্যাপ্টেন সৌরভ বাশিস্ট, কমান্ডার অমিত নাগপাল, কমান্ডার পূর্ণেন্দু তিওয়ারি, কমান্ডার সুগুনাকার পাকালা, নাবিক রাগেশ ও কমান্ডার সঞ্জীব গুপ্তা। তাঁদের মধ্যে সাত জন দেশের মাটিতে পা রেখেছেন।
ভারত সরকারের তরফে মুক্তিপ্রাপ্ত আট প্রাক্তন নৌবাহিনীর কর্তাকে স্বাগত জানিয়েছে। দাহরা গ্লোবাল কোম্পানিতে কাজ করা এই আট ভারতীয় নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে কাতার সরকার আটক করে। দাহরা গ্লোবালের হয়ে কাজ করার সময় ভারতীয় নৌবাহিনীর এসব কর্মকর্তা ইজরায়েলের কাছে গোপন তথ্য পাচার করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাতারের আমিরকে তাঁদের সকলকে মুক্তি দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ এই আট ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রাক্তন কর্তা গ্রেফতার হন। পরে সেদেশের আদালতে তাঁদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা শোনায়। বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা হয় ভারত-কাতারের মধ্যে। কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্য়মে ভারত সরকার ওই আট ভারতীয়র মৃত্যদণ্ড বাতিল করাতে সক্ষম হয়। কাতারের কারাগার থেক ছাড়া পেয়ে দেশে ফেরার পর নৌবাহিনীর প্রাক্তন কর্তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে। তাঁরা বলেন, ‘আমরা খুবই আনন্দিত দেশে ফিরতে পেরে। এজন্য় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ধন্যবাদ জানাই। তাঁর সহযোগিতাতেই আমরা ছাড়া পেয়েছি।’
২০২৩ সালের ২৬ অক্টোবর কাতারের প্রথম স্তরের আদালত ভারতের নৌবাহিনীর ওই কর্তাদের মৃত্যদণ্ডের সাজা শুনিয়েছিল। এরপরেই আসরে নামে ভারত সরকার। ওই সময় ভারত জানিয়েছিল, এই রায়ে তারা ‘বিস্মিত’ হয়েছে। এই রায়ের বিরুদ্ধে সবরকম আইনি পথ অবলম্বন করা হয় ভারত সরকারের পক্ষ থেকে। কাতারের আদালতের রায়ের প্রতিক্রিয়ার বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছিল যে তারা এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে। সবরকম আইনি পথ অনুসরণ করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের ২৫ মার্চে ৮ জন ভারতীয় নৌবাহিনীর কর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়। কাতারের আইন অনুযায়ী বিচার চলছিল তাঁদের। তাঁদের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ উঠেছিল।কাতার আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়েছে ভারত সরকার।