ইলাহাবাদ ১০ মে:জ্ঞানবাপির পর এবার শিরোনামে উঠে এল ফতেহপুর সিক্রি দরগাহ। দাবি উঠল, ফতেপুর সিক্রির দরগার নিচে কামাখ্যার মন্দির রয়েছে। এই মর্মে আদালতে মামলাও দায়ের হল।জানা গিয়েছে, আগ্রার আইনজীবী অজয় প্রতাপ আগ্রা দেওয়ানি আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। দাবি করা হয়েছে, ফতেপুর সিক্রিতে সেলিম চিশতির কোনও দরগাহ না থাকলেও সেখানে কামাখ্যা মাতার মন্দির রয়েছে। আইনজীবী অজয় প্রতাপ সিং আরও বলেন, বর্তমানে সম্পত্তিটি ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের (এএসআই) অধীনে একটি সুরক্ষিত স্মৃতিস্তম্ভ। ফতেপুর সিক্রির আসল নাম সিক্রি, যা বিজয়পুর সিক্রি নামেও পরিচিত ছিল। এটি ছিল শিকারওয়ার ক্ষত্রিয়দের রাজ্য। ইতিমধ্যে এই বিষয়ে মামলাটি গ্রহণও করে নিয়েছে আদালত।
আইনজীবীর দাবি অনুযায়ী, প্রচলিত কাহিনী অনুযায়ী ফতেহপুর সিক্রিকে নাকি সম্রাট আকবর তৈরি করেছিলেন। কিন্তু এটা একদমই মিথ্যে। অজয় প্রতাপ জানিয়েছেন, ‘বাবর তাঁর বাবরনামায় এই সিক্রির কথা উল্লেখ করেছেন। বর্তমানে বুলন্দ দরওয়াজার নীচে দক্ষিণ-পশ্চিমে একটি অষ্টভুজাকৃতির কূপ এবং দক্ষিণ-পূর্ব দিকে একটি দরিদ্র বাড়ি রয়েছে, যার নির্মাণের বর্ণনা দিয়েছেন বাবর।’
তিনি এমন একজনের নাম উল্লেখ করেছেন যার পরে ব্যাপারটি নিয়ে আদালত অবধি ভাবতে বাধ্য হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। আইনজীবী অজয় প্রতাপ সিং ডিভি শর্মার বইয়ের উল্লেখ করেছেন। ডিভি শর্মা আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার তত্ত্বাবধায়ক প্রত্নতাত্ত্বিক ছিলেন। তিনি ফতেপুর সিক্রির বীর ছাবিলি ঢিবি খনন করেছিলেন, যেখানে তিনি নাকি সরস্বতী এবং জৈন মূর্তি পেয়েছিলেন, যা প্রায় ১০০০ খ্রিস্টাব্দের ছিল। ডিভি শর্মা তাঁর ‘আর্কিওলজি অফ ফতেপুর সিক্রি,নিউ ডিসকভারিস’ গ্রন্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন। এই বইয়ের ৮৬ নম্বর পৃষ্ঠায় হিন্দু ও জৈন মন্দিরের ধ্বংসাবশেষের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্রিটিশ কর্মকর্তা ইবি হ্যাভেল সম্পত্তির স্তম্ভ ও ছাদকে হিন্দু ভাস্কর্য বলে উল্লেখ করেছেন এবং এটি মসজিদ বলে অস্বীকার করেছেন।
উত্তরপ্রদেশের সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ড এবং দরগাহ সেলিম চিশতি ম্যানেজমেন্ট কমিটি সহ একাধিক ব্যক্তিকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। আদালতকে আবেদনকারী ঐতিহাসিক বিবরণের ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা এবং ব্যাখ্যা প্রকাশ করেছেন, যা ফতেপুর সিক্রির ইতিহাসে জড়িত পরিচয় ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
আইনি লড়াই শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, ফতেপুর সিক্রির ধর্মীয় ঐতিহ্যের ভাগ্য ঝুলে গেল, বিচারের হলগুলিতে রায়ের অপেক্ষায়!
